মার্কেট টাইমিং
অনেকে বলে মার্কেট টাইমিং হল অশ্বডিম্ব, কেউ বলে বাঘের চোখ, কেউ বলে দিল্লির লাড্ডু, কেউ বলে ধাঁধাঁ, কেউ বলে অলীক কল্পনা। কথা একদম সত্য। যেমন সত্য ছিল- কাঁচের মধ্যে আলো জ্বালানো, মানুষের আকাশে ওড়া, পৃথিবীর এমাথা থেকে ওমাথায় কথা বলা, লাইভে কথা বলা ইত্যাদি। আগের অনেক কল্পনা আজ বাস্তব। তেমনি মার্কেট টাইমিং একসময় কল্পনা হলেও আজ অনেকটাই বাস্তব। আমাদের মনে রাখতে হবে তালপাতায় লেখা এবং টাইপরাইটার এর দিন শেষ, এখন কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার যুগ শুরু হয়েছে। মার্কেট টাইমিং সম্ভব, এটা যদি আপনি বিশ্বাস করতে পারেন তবে একধাপ এগিয়ে যাবেন, নইলে পিছিয়ে পড়ে থাকবেন।
প্রশ্ন হলো- মার্কেট টাইমিং কি আদেও সম্ভব? যদি হয় তবে কিভাবে সম্ভব?
আপনি যদি টেকনিক্যাল এনালাইসিস প্রাকটিস করেন, আপনার যদি পূর্বনির্ধারিত মার্কেট এন্ট্রি এক্সিট রুল থাকে এবং সেটা মেনে চলেন তবে সম্ভব। চলুন দেখাযাক এটা কিভাবে কাজ করে।
১) মার্কেট ডাউন হলে আপনি লং / বাই সিগনাল পাবেন না।
২) মার্কেট ডাউন হলে আপনার বর্তমান লং/বাই পজিশনে সেল/এক্সিট/এসএল সিগনাল আসবে।
৩) মার্কেট আপ হলে আপনি শর্ট/সেল সিগনাল পাবেন না।
৪) মার্কেট আপ হলে আপনার বর্তমান শর্ট/সেল পজিশনে বাই/কাভার/এক্সিট/এসএল সিগনাল আসবে।
মার্কেট একমুখী আর দ্বিমুখী হোক তাতে কোন যায়-আসে না। আপনার পূর্বনির্ধারিত ও পরিক্ষীত মার্কেট এন্ট্রি এক্সিট রুল আছে কি-না এবং সেটা মেনে চলেন কি-না তাতে যায় আসে।
এমন হতে পারে যে, মার্কেট টাইমিং করতে গিয়ে কিছু প্রফিট মিস হতে পারে, কিছু এসএল নিতে হতে পারে, কিছু বাড়তি কমিশন গুনতে হতে পারে তবে এটা সত্য যে টেকনিক্যাল এনালাইসিস এখন যে পর্যায়ে পৌঁছে গেছে তাতে মার্কেট টাইমিং সম্ভব।
টেকনিক্যাল এনালাইসিস এর উপর ভিত্তি করে অনেক মানুষ/প্রতিষ্ঠান এখন অটোমেটেড ট্রেডিং সিস্টেম/ট্রেডিং বট/সিগন্যাল জেনারেটর ইত্যাদি তৈরী করছে। কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা এটাকে আরো সহজ করে তুলেছে।
গুগলে সার্চ করে এটার নেতিবাচক উত্তরই পাবেন। আরো ৫/৭/১০ বছর পরে গুগল যখন ইতিবাচক উত্তর দেবে তখন দেখবেন হয়তোবা ট্রেডিং এর দৌড়ে আপনি অনেকটাই পিছিয়ে গেছেন।
বিশ্বাস জোর করে করানোর জিনিষ/বিষয় না। এটা বাস্তবতা দেখে উপলব্ধি করা ও মেনে নেওয়ার বিষয়। বুদ্ধিমানরা আগে করে, বোকারা বুদ্ধিমানদের দেখে করে, চালাকরা পরে করে, অতিচালাকরা নিজের বিশ্বাসের সাথেই চালাকি করে।