এই ব্লগটি সন্ধান করুন

টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর (লেভেল-২)

টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটরঃ অগণিত টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর আছে, আরো নতুন নতুন ইন্ডিকেটর যোগ হচ্ছে। কিছু পপুলার ইন্ডিকেটর নিয়ে আমরা আলোচনা করব। সেগুলো হলো - 

১) মুভিং এভারেজ 
২) এমএসিডি
৩) আরএসআই 
৪) বলিঞ্জার ব্যান্ড
৫) ফিবোনাক্কি    
যারা এইসব ইন্ডিকেটর আবিষ্কার/প্রচলন করেছেন তারা একটি ইন্ডিকেটরের উপরেই একটা বই লিখেছেন। আমরা এর গঠণগতদিতে বেশি সময় ব্যয় না করে সহজভাবে ও সংক্ষেপে শুধু প্রায়োগিক দিকগুলো বোঝার চেষ্টা করব।  
====================================================================================

১) মুভিং এভারেজঃ 
মুভিং এভারেজ কে বাংলায় বলে চলমান গড়। ক্যান্ডেল যত আগাতে থাকে, সাথে সাথে এর মান পরিবর্তিত হতে থাকে। ধরুন একটি আছে ৬,৬,৫,৬,৭,৫,৬। আপনি ২ দিনের চলমান গড় চাচ্ছেন। তাহলে আপনি এখানে শেষ বিন্দুতে ৫ ও ৬ এর গড় (৫+৬)/২=৫.৫ দেখতে পাবেন। এরপর যদি ডাটাটি হয় ৬,৬,৫,৬,৭,৫,৬,৭ তাহলে শেষ বিন্দুতে ৬ ও ৭ এর গড় (৬+৭)/২=৬.৫ দেখতে পাবেন। একইভাবে, আপনি যে বিন্দুতে মাউসের কার্সর রাখবেন সেখান থেকে যতদিনের মুভিং এভারেজ ততদিন আগের ডাটার উপর হিসাব করে মুভিং এভারেজ এর মান দেখানো হবে। 

মুভিং এভারেজের ধরণঃ মুভিং এভারেজের অনেক ধরণ আছে, নীচে তার কয়েকটির নাম দেওয়া হলো- 
১) সিম্পল মুভিং এভারেজ (এমএ বা এসএমএ) 
২) এক্সপোনেনশিয়াল মুভিং এভারেজ (ইএমএ) 
৩) ওয়েইটেড মুভিং এভারেজ (ডাব্লুএমএ) 
৪) ভলিউম ওয়েইটেড মুভিং এভারেজ  (ভিডাব্লুএমএ)  প্রভৃতি 

নীচে সিম্পল মুভিং এভারেজ এর উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। সিম্পল ও এক্সপোনেনশিয়াল মুভিং এভারেজ বোঝা সহজ এবং কার্যকারীতাও বেশী। 

মুভিইং এভারেজ চার্টের উপরে/সাথেই একসাথে প্রদর্শিত হয়। এটা লাইন, এরিয়া বা অন্যভাবেও প্রদর্শনের ব্যবস্থা আছে। আসুন আমরা চার্টে দেখি- 

চার্টের উপর আমরা একসাথে একাধিক এমএ প্লট করতে পারি। উপরের চার্টে এমএ ২০, ৫০, ২০০০ প্লট করা আছে। ইচ্ছামত এর রঙ, থিকনেস, স্টাইল ইত্যাদি পরিবর্তন করা যায়। 

ফাইনাল বিষয় হলো ইন্ডিকেটর দিয়ে ট্রেড কিভাবে করে? 
এমএ ট্রেডারদের ২ টি দল দেখা যায়-
    প্রথম দল একটি ছোট এমএ যখন নীচ থেকে একটি বড় এমএ কে উপরের দিকে ক্রস করে তখন শেয়ার কেনে এবং ছোট এমএ যখন উপর থেকে একটি বড় এমএ কে নীচের দিকে ক্রস করে তখন শেয়ার বিক্রি করে দেয়। এখানে ২ টি এমএ ব্যবহার করা হয়। নীচের চিত্রে এমএ ২০ ও ৫০ ক্রসিং ব্যবহার করে একটি চার্টে বাই সেল দেখানো হলো। 

    দ্বিতীয় দল  ১ টি এমএ ব্যবহার করে ট্রেড করে।  প্রাইস যখন এমএ কে নীচ থেকে উপরের দিকে ক্রস করে তখন শেয়ার কেনে এবং প্রাইস যখন এমএ কে উপর থেকে নীচের দিকে ক্রস করে তখন শেয়ার বিক্রি করে দেয়। নীচের চিত্রে এমএ ২০ ব্যবহার করে একটি চার্টে বাই সেল দেখানো হলো। 

মুভিং এভারেজ এর ব্যবহারঃ 
১) প্রাইস গড় এর ধারণা পেতে
২) ট্রেডিং / বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে 
৩) স্টক / ইনডেক্স ট্রেন্ড বুঝতে 
৪) বাই / সেল করতে 
৫) এসএল / টিপি কার্যকর করতে 
৬) ট্রেডিং স্ট্র্যাটেজির পার্ট হিসাবে ইত্যাদি 

মুভিং এভারেজের সুবিধাঃ  
১) বোঝা সহজ 
২) ব্যবহার করা সহজ 
৩) ট্রেডিং স্ট্র্যাটেজিতে কাজে লাগে 
৪) প্রাইস ট্রেন্ড বোঝা যায় 
৫) এসএল টিপি সহজ  

মুভিং এভারেজের অসুবিধাঃ  
১) এটা ল্যাগিং 
২) সাইডওয়েতে ঘনঘন ট্রেড আসে  
৩) যতদিন সাইডওয়েতে থাকে ততদিন লস হতে পারে  
৪) ভার্টিক্যাল মুভের শেয়ারে প্রফিট রিয়েলাইজেশনে লেট হয় ফলে লাভ কম হয়।  

এক্সপোনেনশিয়াল মুভিং এভারেজ (ইএমএ)ঃ  এক্সপোনেনশিয়াল মুভিং এভারেজ সিম্পল মুভিং এভারেজের মতই তবে যে ডাটা যত রিসেন্ট তার ওয়েট তত বেশী। এটা সিম্পল মুভিং এভারেজের চেয়ে ফাস্টারদ্রুত ট্রেডের জন্য সিম্পলের চেয়ে এক্সপোনেনশিয়াল ভাল কার্যকর। এক্সপোনেনশিয়াল মুভিইং এভারেজ চার্টের উপরে/সাথেই একসাথে প্রদর্শিত হয়। এটা লাইন, এরিয়া বা অন্যভাবেও প্রদর্শনের ব্যবস্থা আছে। 
====================================================================================

২) এমএসিডিঃ  
এমএসিডি এর অর্থ হলো মুভিং এভারেজ কনভার্জেন্স ডাইভার্জেন্স। এই ইন্ডিকেটরে ইএমএ ৯,১২,২৬ ব্যবহার করা হয়। এমএসিডি চার্টের নীচে আলাদা প্যানে প্রদর্শিত হয়। এতে ২ টি লাইন থাকে একটিকে বলে এমএসিডি লাইন অন্যটিকে বলে সিগনাল লাইন। এছাড়াও এতে হিস্টোগ্রাম থাকে। এমএসিডি এর মান ০ থেকে শুরু হয় যা " + " আকারে বাড়তে থাকে এবং " - " আকারে কমতে থাকে। আসুন আমরা চার্টে দেখি- 

উপরের চার্টের নীচের প্যানে এমএসিডি ৯, ১২, ২৬ প্লট করা আছে। ইচ্ছামত এর ভ্যালু, রঙ, থিকনেস, স্টাইল ইত্যাদি পরিবর্তন করা যায়। এমএসিডি এর শেষ ভ্যালু ডানদিকের এক্সিসে দেখা যাচ্ছে। 

এখন বিষয় হলো এমএসিডি ইন্ডিকেটর দিয়ে কিভাবে ট্রেড করে? 
    এমএসিডি লাইন যখন নীচ থেকে উপরের দিকে সিগনাল লাইন কে ক্রস করে তখন বাই এবং এমএসিডি লাইন যখন উপর থেকে নীচের দিকে সিগনাল লাইন কে ক্রস করে তখন সেল। নীচের চিত্রে এমএসিডি ৯, ১২, ২৬ ক্রসিং ব্যবহার করে একটি চার্টে বাই সেল দেখানো হলো। নীল দাগগুলো দিয়ে বাই এবং লাল দাগগুলো দিয়ে সেল পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। 

এমএসিডি এর ব্যবহারঃ 
১) ট্রেডিং সিদ্ধান্ত নিতে 
২) বাই / সেল করতে
৩) এসএল / টিপি কার্যকর করতে  
৪) ট্রেডিং স্ট্র্যাটেজির পার্ট হিসাবে ইত্যাদি 

এমএসিডি এর সুবিধাঃ  
১) বোঝা সহজ 
২) ব্যবহার করা সহজ 
৩) ট্রেডিং স্ট্র্যাটেজিতে কাজে লাগে 
৪) এসএল টিপি সহজ 

এমএসিডি এর অসুবিধাঃ  
১) এটাও ল্যাগিং 
২) সাইডওয়েতে ঘনঘন ট্রেড আসে  
৩) সাইডওয়েতে ঘনঘন ফলস সিগনাল জেনারেট হয় 
====================================================================================

৩) আরএসআইঃ    
আরএসআই এর অর্থ রিলেটিভ স্ট্রেন্থ ইনডেক্স। এই ইন্ডিকেটরের ডিফল্ট প্যারামিটার হলো ১৪।আরএসআই চার্টের নীচে আলাদা প্যানে প্রদর্শিত হয়। এতে ১ টি লাইন থাকে একটিকে বলে আরএসআই লাইন। আরএসআই এর মান ০ থেকে ১০০ পর্যন্ত হয়। এর মান ৭০ এর উপরে হলে ওভার বট এবং ৩০ এর নীচে হলে ওভারসোল্ড ধরা হয়। আসুন আমরা চার্টে দেখি- 


উপরের চার্টের নীচের প্যানে আরএসআই ১৪ প্লট করা আছে। ইচ্ছামত এর ভ্যালু, রঙ, থিকনেস, স্টাইল ইত্যাদি পরিবর্তন করা যায়। আরএসআই এর শেষ ভ্যালু ডানদিকের এক্সিসে দেখা যাচ্ছে। 

এখন বিষয় হলো আরএসআই ইন্ডিকেটর দিয়ে কিভাবে ট্রেড করে? 
আরএসআই মুলত ট্রেন্ডের স্ট্রেন্থ নির্ণয় করে। আরএসআই দিয়ে চলমান ট্রেন্ড স্ট্রং না উইক সেটা বোঝা যায়। আরএসআই দিয়ে সরাসরি ট্রেড করা যায় তবে সরাসরি ট্রেডের চেয়ে ট্রেডের সিদ্ধান্ত সহায়ক হিসাবে কাজ করে। এটা ট্রেন্ডের সুইং ফেইলুর নির্ণয়েও সহায়ক ভুমিকা পালন করে। ট্রেডিশনালি বলা হয় আরএসআই দিয়ে ট্রেড করতে ওভারসোল্ড পজিশনে বাই করতে হয় এবং ওভারসোল্ড পজিশনে সেল করতে হয়। তবে আরএসআই ডাইভার্জেন্স সহজেই ট্রেড করা যায়। প্রাইস যখন নতুন হাই তৈরী করে কিন্তু আরএসআই নতুন হাই তৈরী করতে ব্যর্থ হয় তখন এটাকে বিয়ারিশ আরএসআই ডাইভার্জেন্স বলে, আবার প্রাইস যখন নতুন লো তৈরী করে কিন্তু আরএসআই নতুন লো তৈরী করতে ব্যর্থ হয় তখন এটাকে বুলিশ আরএসআই ডাইভার্জেন্স বলে। আমাদের মার্কেটে যেহেতু শর্ট সেল নাই সেহেতু আমাদের প্রয়োজন বুলিশ আরএসআই ডাইভার্জেন্স। নীচের চিত্রে আরএসআই ডাইভার্জেন্স এর উদাহরণ দেখানো হলো। 

আরএসআই এর ব্যবহারঃ 
১) ট্রেডিং / বাই সেল সিদ্ধান্ত নিতে 
২) চলমান ট্রেন্ডের স্ট্রেন্থ নির্ণয় করতে 
৩) ট্রেন্ড সুইং ফেইলুর নির্ণয় করতে   
৪) ট্রেডিং স্ট্র্যাটেজি হিসাবে 
৫) ডাইভার্জেনস খুঁজে পেতে ইত্যাদি 

আরএসআই এর সুবিধাঃ  
১) ট্রেডিং স্ট্র্যাটেজিতে কাজে লাগে  
২) ট্রেন্ডের স্ট্রেন্থ বোঝা যায় 
৩) ট্রেন্ড সুয়িং ফেইলুর জানা যায় 
৪) ট্রেডিং / বাই সেল করা যায়  
৫) দ্রুত ফল পাওয়া যায় 

আরএসআই এর অসুবিধাঃ  
১) এটা খুব ফাস্ট চলে 
২) ডাইভার্জেন্স খুজে পাওয়া যায় কম 
৩) ডাইভার্জেন্সের প্রভাব ক্ষণস্থায়ী 
৪) টি+১ এ ম্যাচুরিটি বিধায় কুইক এসএল সেট করা কঠিন 
৫) যারা এসএল নিতে পারে না তাদের জন্য বিপদজনক হতে পারে 
====================================================================================

৩) বলিঙ্গার ব্যান্ডঃ    
জন বলিঙ্গার এই বলিঙ্গার ব্যান্ড প্রণয়ন করেন। এই ইন্ডিকেটরে ডিফল্ট এমএ ২০ এবং স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন +২, -২ ব্যবহার করা হয়। বলিঙ্গার ব্যান্ডের আপার ব্যান্ড ওভারসোল্ড এবং নিচের ব্যান্ড ওভারসোল্ড নির্দেশ করে। বলিঙ্গার ব্যান্ড চার্টের উপর এক সাথে প্রদর্শিত হয়।  আসুন আমরা চার্টে দেখি- 


উপরের চার্টে বলিঙ্গার ব্যান্ড প্লট করা আছে। ইচ্ছামত এর ভ্যালু, রঙ, থিকনেস, স্টাইল ইত্যাদি পরিবর্তন করা যায়। বলিঙ্গার ব্যান্ড এর শেষ ভ্যালু ডানদিকের এক্সিসে দেখা যাচ্ছে। 

এখন বিষয় হলো বলিঙ্গার ব্যান্ড দিয়ে কিভাবে ট্রেড করে? 
প্রাইস যখন বলিঙ্গার ব্যান্ডের নীচের ব্যান্ডে হিট কর এবং একটি গ্রীন ক্যান্ডেল তৈরী করে তখন বাই করতে হয়। প্রাইস যখন বলিঙ্গার ব্যান্ডের উপরের ব্যান্ডে হিট কর এবং একটি রেড ক্যান্ডেল তৈরী করে তখন সেল করতে হয়। এটা খুবই একটা সিম্পল ম্যাথড। বলিঙ্গার ব্যান্ড সাইডওয়ে মার্কেটে ভাল কাজ করে কিন্তু ডাউন মার্কেটে ব্যবহার করা কঠিন। 

বলিঙ্গার ব্যান্ড এর ব্যবহারঃ 
১) ট্রেডিং/ বাই সেল সিদ্ধান্ত নিতে 
২) ট্রেডিং স্ট্র্যাটেজির পার্ট হিসাবে ইত্যাদি 
৩) শর্ট টার্ম ট্রেন্ড বুঝতে 

বলিঙ্গার ব্যান্ড এর সুবিধাঃ  
১) সহজে বোঝা যায়  
২) সহজে ব্যবহার করা যায় 
৩) সাইডওয়ে মার্কেটেও কাজ করে  

বলিঙ্গার ব্যান্ড এর অসুবিধাঃ  
১) ওভারসোল্ড বেশ কয়েক ক্যান্ডেল চলতে থাকলে এসএল হিট করে 
২) ওভারবট বেশ কয়েক ক্যান্ডেল চলতে থাকলে প্রফিট মিস হয় 
৩) ট্রেন্ডি মার্কেটে ব্যবহারে বেশ দক্ষতা লাগে 

আরো অনেক ব্যান্ড ও চ্যানেল আছে যেগুলো পরবর্তিতে আপলোড করা হবে। 
====================================================================================

৪) ফিবোনাক্কিঃ     
ইটালিয়ান গণিতবিদ ফিবোনাক্কি সিরিজ প্রণয়ন করেন। এটা ০ থেকে শুরু হয় এবং পরবর্তী নম্বর আগের দুইটি নম্বরের যোগফলের সমান হয়। যেমন ০, ১, ১, ২, ৩, ৫, ৮, ১৩, ২১,--------। ফিবোনাক্কি প্রাইস চার্টের উপর ড্র করা হয়। এর গোল্ডেন রেশিও হলো ১.৬১৮ কারণ এই রেশিওটি প্রকৃতিতে অনেক ক্ষেত্রে খুজে পাওয়া যায়। আপ ট্রেন্ডে ফিবোনাক্কি ড্র করার সময় প্রথম বিন্দু শেষ লওয়ার লো তে, দ্বিতীয় বিন্দু প্রথম হায়ার হাই তে এবং তৃতীয় বিন্দু প্রথম হায়ার লো তে সেট করতে হয়। ফিবোনাক্কি পয়েন্টগুলো পরবর্তীতে সাপোর্ট রেজিস্টেন্স হিসাবে কাজ করে বলে ট্রেডাররা বিশ্বাস করে।  আসুন এখন আমরা চার্টে ফিবোনাক্কি ড্র করে দেখি- 

উপরের চার্টে ট্রেন্ড বেজ ফিবোনাক্কি এক্সটেনশন ড্র করা হয়েছে, যেখানে ০.৭৮৬ রেশিও তে ট্রেন্ডের ২য় র‍্যালি শেষ হয়েছে এবং ০.২৩৬ রেশিও পর্যন্ত কারেকশন হয়েছে এবং সেখানে সাপোর্ট নিয়ে ৩য় র‍্যালি ১.৬১৮ রেশিওতে যেয়ে শেষ হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ১.৬১৮ রেশিওটি ফিবোনাক্কির একটি গোল্ডেন রেশিও। এছাড়াও ২.৬১৮ এবং ৩.৬১৮ রেশিও বেশ কার্যকর। ফিবোনাক্কির লাইনগুলোর থিকনেস পরিবর্তন করা যায়। ফিবোনাক্কি নিয়ে ট্রেডিং ভিউ চার্টে ফুল সেট টুল আছে।  

ফিবোনাক্কি দিয়ে কিভাবে ট্রেড করা যায় ? 
ফিবোনাক্কির রেশিও লাইনগুলোকে সাপোর্ট রেজিস্টেন্স বিবেচনা করে সাপোর্ট রেজিস্টেন্সে যেভাবে ট্রেড করা হয় সেভাবেই ট্রেডিং সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এটা সাপোর্ট রেজিস্টেন্স ট্রেডিং এর মত সিম্পল ম্যাথড শুধু নতুন ট্রেন্ডের শুরুতে ফিবোনাক্কি ড্র করে নিতে হয়। চার্টে ফিবোনাক্কি ব্যবহার করে দেখা যাক- 

উপরের চার্টে একটি আপ ট্রেন্ডে ফিবোনাক্কি ড্র করা হয়েছে। ফিবোনাক্কি সাপোর্ট লেভেলে প্রথম গ্রীন কান্ডেলে বাই এবং কোন লেভেলে রেড ক্যান্ডেল আসলে সেল। এভাবেই আবার 
ফিবোনাক্কি সাপোর্ট লেভেলে প্রথম গ্রীন কান্ডেলে বাই এবং কোন লেভেলে রেড ক্যান্ডেল আসলে সেল। এটা চলতে থাকবে যতক্ষণ না ট্রেন্ড রিভার্স করে। 

ফিবোনাক্কি এর ব্যবহারঃ 
১) ট্রেডিং/ বাই সেল সিদ্ধান্ত নিতে 
২) ট্রেডিং স্ট্র্যাটেজির পার্ট হিসাবে 
৩) ফিবোনাক্কি সাপোর্ট রেজিস্টেন্স সনাক্ত করতে ইত্যাদি 

ফিবোনাক্কি এর সুবিধাঃ  
১) সহজে বোঝা যায়  
২) সহজে ব্যবহার করা যায় 
৩) ট্রেন্ডি মার্কেটে ভাল কাজ করে  

ফিবোনাক্কি এর অসুবিধাঃ  
১) ট্রেন্ড বুঝতে ভুল করলে ভুল সাপোর্ট রেজিস্টেন্স সনাক্ত হয়  
২) ট্রেন্ড বুঝতে ভুল করলে ভুল ফলাফল আসে 
৩) ড্র করতে ট্রেন্ড এক্সপার্টাইজ লাগে 

উল্লেখিত ইন্ডিকেটরগুলো বহুল ব্যবহৃত। এছাড়াও প্রচুর ইন্ডিকেটর আছে। পাঠকদের রিভিউ ও চাহিদার ভিত্তিতে অন্যান্য ইন্ডিকেটর সম্বন্ধে ভবিষ্যতে আপলোড দেওয়া হবে।  

লেভেল-৩ তে বিভিন্ন ইন্ডিকেটর ব্যবহার করে কিভাবে ট্রেড করতে হয় সেটা নিয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।