ক্যান্ডেল কি?
ক্যান্ডেল বা ক্যাল্ডেলস্টিক হলো একটি
নিদৃষ্ট সময়ের জন্য একটি শেয়ার প্রাইসের গতিবিধির গ্রাফিক্যাল উপস্থাপনা। একটি
ক্যান্ডেল গঠন হওয়া শুরু হয় বাজারে শেয়ারের বেচা-কেনা শুরুর প্রাইস থেকে এবং
ক্যান্ডেলটি সম্পন্ন হয় ক্লোজ প্রাইস বা বাজারের বেচা-কেনার সমাপ্ত প্রাইস এর
মাধ্যমে।
ক্যাল্ডেলস্টিক এর ইতিহাসঃ
ধারণা করা হয়, ১৮ শতকের দিকে জাপানিজ চাউল ব্যবসায়ী
মুনিহিসা হোমা প্রথম ক্যান্ডেলস্টিক ব্যবহার করেন, তবে ১৯৯১ সালে মিঃ স্টিভ নিসন
“জাপানিজ ক্যান্ডেলস্টিক চার্টিং টেকনিকস” নামক বই প্রকাশের মাধ্যমে বিশ্বদরবারে ক্যান্ডেলকে পরিচিত করেন।
ক্যান্ডেলের গঠনঃ
প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে ব্যবহৃত
ক্যান্ডেল গাঠনিকভাবে প্রাইস প্রবাহের চারটি অবস্থানকে সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করে, যথা-
ওপেন প্রাইস, ক্লোজ প্রাইস, সর্বোচ্চ
প্রাইস এবং সর্বনিন্ম প্রাইস। ওপেন প্রাইস এর মাধ্যমে ক্যান্ডেল শুরু হয় এবং ক্লোজ
প্রাইসের মাধ্যমে ক্যান্ডেল পুর্ণাঙ্গতা পায়। গাঠনিকভাবে একটি ক্যান্ডেলের ওপেন ও ক্লোজ প্রাইসের গতিপথকে ক্যান্ডেল বডি এবং সর্বোচ্চ প্রাইস বা সর্বনিন্ম প্রাইসের অংশকে উইক বা স্যাডো
বলে।
প্রতিটি ক্যান্ডেলের ৪টি পয়েন্ট থাকে, যথা-
২) হাইঃ সর্বোচ্চ প্রাইস
৩) লোঃ সর্বনিম্ন প্রাইস ও
৪) ক্লোজঃ শেষের প্রাইস
মনে রাখতে হবে যে,
- বুলিশ ক্যান্ডেলে ওপেন হলো নীচে আর ক্লোজ হলো উপরে
- বিয়ারিশ ক্যান্ডেলে ওপেন হলো উপরে আর ক্লোজ হলো নীচে
ক্যান্ডেলের শ্রেণীবিভাগঃ
ক্যান্ডেল সাধারণত দুই প্রাকার, যথা-
১) বুলিশ বা পজেটিভ ক্যান্ডেল এবং
২) বিয়ারিশ বা নেগেটিভ ক্যান্ডেল।
বুলিশ ক্যান্ডেলকে
সবুজ বা সাদা রঙ এবং বিয়ারিশ ক্যান্ডেলকে লাল বা কালো রঙ দ্বারা উপস্থাপন করা হয়।
ক্যান্ডেল/ক্যান্ডেলের বিভিন্ন প্যাটার্নঃ
এক বা একাধিক ক্যান্ডেল মিলে একটি ক্যান্ডেল প্যাটার্ণ তৈরী হয়। বিভিন্ন বইতে বিভিন্ন ধরণের ক্যান্ডেল প্যাটার্ণ এর কথা বলা আছে। বহুল প্রচলিত ক্যান্ডেল প্যাটার্ন সমূহ সম্বন্ধে আলোকপাত করা হলো।
ক) এক ক্যান্ডেল বিশিষ্ট প্যাটার্ণঃ
১। ডোজিঃ যখন কোন শেয়ারের ওপেন ও ক্লোজ প্রাইস একই হয়, অর্থাৎ শেয়ার প্রাইস ট্রেডের শুরুতে ও শেষে একই থাকে তখন সেই ক্যান্ডেলকে ডোজি ক্যান্ডেল বলে। ডোজি ক্যান্ডেল কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। যথা-ডোজি, ড্রাগনফ্লাইডোজি, লং লেগড ডোজি, গ্রেভস্টোন ডোজি ইত্যাদি। এক ক্যান্ডেলেই এই প্যাটার্ণ সম্পন্ন হয়।
২। হ্যামার/ পিনঃ যখন কোন ক্যান্ডেলের বডি ছোট হয় এবং নিচের দিকে লম্বা উইকস বা স্যাডো থাকে তখন তাকে হ্যামার বা পিন ক্যান্ডেল বলে। হ্যামারের বডি গ্রীন বা রেড এবং হ্যামার বুলিশ বা বিয়ারিশ দুই প্রাকারই হতে পারে। এক ক্যান্ডেলেই এই প্যাটার্ণ সম্পন্ন হয়।
৩। স্যুটিং স্টারঃ যখন কোন মুল্য বৃদ্ধির পর বিয়ারিশ হ্যামার বা পিন দেখা যায় তখন তাকে শুটিং স্টার বলে। এক ক্যান্ডেলেই এই প্যাটার্ণ সম্পন্ন হয়।
খ) একাধিক ক্যান্ডেল বিশিষ্ট প্যাটার্ণঃ
৪। এনগালফঃ যখন কোন অপেক্ষাকৃত বড় ক্যান্ডেল বডি পূর্বের বিপরীতধর্মী বড় ক্যান্ডেল বডিকে ঢেকে ফেলে তখন তাকে এনগালফ ক্যান্ডেল বলে। এনগালফ ক্যান্ডেল দুই প্রকার, যথা- বুলিশ এনগালফ এবং বিয়ারিশ এনগালফ। দুটি ক্যান্ডেল মিলে এই প্যাটার্ণ সম্পন্ন হয়।
৫। মর্নিং স্টারঃ প্রাইস ট্রেন্ড
ডাউনে থাকাকালে মর্নিং স্টার প্যাটার্ন তিনটি ক্যান্ডেলের সমন্বয়ে গঠিত হয়। প্রথম
ক্যান্ডেলটি বিয়ারিশ এবং অপেক্ষাকৃত বড় আকারের হয়ে থাকে, তার ঠিক
নিচে দ্বিতীয় ক্যান্ডেলটি আপেক্ষাকৃত ছোট বিয়ারিশ বা বুলিশ ক্যান্ডেল হয়ে থাকে এবং
তৃতীয় ক্যান্ডেলটি অপেক্ষাকৃত বড় বুলিশ ক্যান্ডেল হয়ে থাকে যা প্রথম ক্যান্ডেলকে
এনগালফ করে ফেলে।
৬। ইভিনিং স্টারঃ এটি মর্নিং স্টারের
বিপরীত ধর্মী ক্যান্ডেল প্যাটার্ন, এটিও তিনটি
ক্যান্ডেলের সমন্বয়ে গঠিত হয়। প্রথম ক্যান্ডেলটি বড় আকারের বুলিশ ক্যান্ডেল,
তার উপরে দ্বিতীয় ক্যান্ডেলটি আপেক্ষাকৃত ছোট বিয়ারিশ বা বুলিশ
ক্যান্ডেল হয়ে থাকে এবং তৃতীয় ক্যান্ডেলটি অপেক্ষাকৃত বড় বিয়ারিশ ক্যান্ডেল হয়ে
থাকে যা প্রথম ক্যান্ডেলকে এনগালফ করে।
৯। টুইজার টপঃ টুইজার ইংরেজি শব্দ এর অর্থ সন্না দিয়ে তোলা। প্যাটার্ণটি দেখতে সন্নার মতই। প্রাইস ট্রেন্ড আপ থাকাকালে টুইজার টপ প্যাটার্ন দুইটি ক্যান্ডেলের সমন্বয়ে গঠিত হয়। দুটি রিভার্স হ্যামার ক্যান্ডেল পাশাপাশি অবস্থান করে এবং দেখতে একই রকম হয়। দুইটি ক্যান্ডেল মিলে এই প্যাটার্ণ সম্পন্ন হয়।
- ক্যান্ডেল চার্ট তৈরী
- স্কাল্পিং
- ডে ট্রেডিং
- শর্ট টার্ম ট্রেডিং ইত্যাদি।