শেয়ার বাজার এনালাইসিসঃ
শেয়ার বাজার এনালাইসিস করার জন্য বিনিয়োগকারীরা প্রধানত দুই ধরনের এনালাইসিস ব্যবহার করেন।
ক)
টেকনিক্যাল এনালাইসিস
খ) ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস
ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস করতে একাউন্টিং এবং
ফাইনান্সের গভীর জ্ঞানের প্রয়োজন হয় কিন্তু টেকনিক্যাল এনালাইসিস করতে একাউন্টিং বা
ফাইনান্সের গভীর জ্ঞানের প্রয়োজন হয় না। একজন স্বল্প শিক্ষিত ব্যক্তিও সহজেই
টেকনিক্যাল এনালাইসিস করতে শিখতে পারে ও টেকনিক্যাল এনালাইসিস এর উপর দক্ষতা অর্জন
করতে পারে এবং এই দক্ষতা দিয়ে বাজার থেকে মুনাফা করতে পারে।
টেকনিক্যাল এনালাইসিস কি?
টেকনিক্যাল এনালাইসিস (Technical Analysis) হলো এমন একটি আর্থিক হাতিয়ার (Financial Tool) যার মাধ্যমে কোন সম্পদের আর্থিক বিশ্লেষণ করা হয় এবং যা বিভিন্ন আর্থিক সম্পত্তির অতীত মুল্যের উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যত মূল্যবৃদ্ধি - মূল্যহ্রাস বা মূল্যপ্রবাহের সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান করে। এই আর্থিক বিশ্লেষণ এর মাধ্যমে বিনিয়োগে ভবিষ্যৎ লাভ ও ঝুঁকি নির্ধারণ করা হয়। এই টুল শেয়ার বাজার, বৈদেশিক মুদ্রা বাজার, কমোডিটি বাজার এবং অন্যান্য আর্থিক বাজারে বহুল প্রচলিত।
অন্যভাষায়- শেয়ার ট্রেডিং এর সুযোগ খুজে বের করার জন্য শেয়ারের অতীতের প্রাইস, ভলিউম ডাটা এবং পরিসংখ্যান পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রাইস ডাটা প্রদর্শন, প্রাইস ডাটার গতিবিধির বিশ্লেষণ, ব্যখ্যা এবং পূর্বাভাস দেওয়ার পদ্ধতিতে টেকনিক্যাল এনালাইসিস বলে।
টেকনিক্যাল এনালাইসিসের মৌলিক নীতি হলোঃ
১) মুল্য সবকিছুকে ডিস্কাউন্টিং করে ।
২) ট্রেন্ড বিদ্যমান ।
৩) ইতিহাস পূনরাবৃত্তি হয়।
টেকনিক্যাল এনালাইসিস এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ
টেকনিক্যাল এনালাইসিস ১৭ শতাব্দীতে শুরু হলেও ১৮ শতাব্দীতে এসে তা জনপ্রিয় হওয়া শুরু করে।
হোনমা মোনাহিসা (১৭২৪-১৮০৩) ছিলেন একজন জাপানী চাল ব্যবসায়ী, যিনি ডজিমা রাইস এক্সেঞ্জ, ওসাকা, জাপানে চাল ট্রেড করতেন। তিনি চালের প্রাইসের ওঠানামা লিপিবদ্ধ করতে ক্যান্ডেলস্টিক এর ব্যবহার করতেন। তাকে ক্যান্ডেলিস্টিক বা ক্যান্ডেলিস্টিক চার্ট এর জনকও বলা হয়ে থাকে।
চার্লস ডাউ (১৮৫১-১৯০২) আমেরিকার স্টক ডাটা নিয়ে কাজ করতেন এবং তিনি তার মতবাদ দি ওয়াল স্ট্রীট জার্নালে প্রকাশ করেন যা পরবর্তীতে ডাউ থিওরী হিসাবে পরিচিতি পায়। তিনি স্টকের ট্রেন্ড, বিজনেস সাইকেল বিষয়ে ধাওরণা দেন। চার্লস ডাউ কে টেকনিক্যাল এনালাইসিসের জনকও বলা হয়ে থাকে।
টেকনিক্যাল এনালাইসিস এর সুবিধাসমূহঃ
- উপযোগীতাঃ স্বল্প, মধ্যম, দীর্ঘ সকল মেয়াদী বিনিয়োগের জন্য টেকনিক্যাল এনালাইসিস ব্যবহার করা যায়।
- ব্যবহারের ক্ষেত্রঃ শেয়ার বাজার, মুদ্রা বাজার, কমোডিটি বাজার, ক্রিপ্টোকারেন্সি ইত্যাদি ক্ষেত্রে এটা বহুল ব্যবহৃত।
- মুনাফার সম্ভাব্যতা যাচাইঃ এর মাধ্যমে খুব সহজেই মুনাফার সম্ভব্যতা নিরুপণ করা যায়।
- বিনিয়োগে ঝুকি নিরুপণঃ এর মাধ্যমে খুব সহজেই বিনিয়োগের ঝুকি নিরুপন করা যায়।
- শেখার জটিলতাঃ টেকনিক্যাল এনালাইসিস শিখতে জটিল একাউন্টিং/ফাইনান্সের জ্ঞানের প্রয়োজন হয় না।
- শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ যে কোন বয়সের স্বল্প শিক্ষিত ব্যক্তিও সহজেই টেকনিক্যাল এনালাইসিস শিখতে পারে।
- শেখার সময়ঃ শিখতে তুলনামূলক কম সময়ের প্রয়োজন হয়।
- শেখার খরচঃ শিখতে তুলনামূলক কম খরচের প্রয়োজন হয়।
- দক্ষতা অর্জনঃ টেকনিক্যাল এনালাইসিস ব্যবহার করা সহজ এবং খুব সহজেই একজন দক্ষ টেকনিক্যাল এনালিস্ট হয়ে উঠতে পারে।
- ব্যবহারকালঃ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই জ্ঞান ব্যবহার করা যায়, অবসরের কোন বয়স নেই।
আর্থিক বাজারে টেকনিক্যাল এনালাইসিস ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এবং জনপ্রিয়।টেকনিক্যাল এনালাইসিস বিশ্বজুড়ে ব্যবসায়ী এবং বিনিয়োগকারীদের দ্বারা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এবং অধ্যয়ন করা হয়।
- ব্যবহারের ক্ষেত্রঃ শেয়ার বাজার, মুদ্রা বাজার, কমোডিটি বাজার, ক্রিপ্টোকারেন্সি ইত্যাদি ক্ষেত্রে এটা বহুল ব্যবহৃত।
- উপযোগীতাঃ স্বল্প, মধ্যম, দীর্ঘ সকল মেয়াদী বিনিয়োগের জন্য টেকনিক্যাল এনালাইসিস ব্যবহার করা যায়।
- মুনাফার সম্ভাব্যতা যাচাইঃ এর মাধ্যমে খুব সহজেই মুনাফার সম্ভব্যতা নিরুপণ করা যায়।
- পক্ষপাতহীন বিশ্লেষণঃ টেকনিক্যাল এনালাইসিসে পক্ষপাতের সুযোগ নেই, ইহা পক্ষপাতমুক্ত বলা যায়।
- ব্যাকটেস্ট এর সুযোগঃ বর্তমান সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা মুল্যায়নের জন্য ঐতিহাসিক ডাটা ব্যবহার করে ব্যকটেস্ট করা যায়।
- বিনিয়োগে ঝুকি নিরুপণঃ এর মাধ্যমে খুব সহজেই বিনিয়োগের ঝুকি নিরুপন করা যায়।
- ঝুকি ব্যবস্থাপনাঃ এন্ট্রি পয়েন্ট, এক্সিট পয়েন্ট, স্টপ লস, টার্গেট প্রফিট, রিস্ক-রিওার্ড রেশিও, মানি ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদির মাধ্যমে কার্যকরভাবে ঝুকি নিয়ন্ত্র করা যায়।
তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, বিনিয়োগের মেয়াদ অনুযায়ী এই বিশ্লেষণের ধরণ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে রিস্ক এবং রিটার্ণও ভিন্ন ভিন্ন হয়।