এই ব্লগটি সন্ধান করুন

টেকনিক্যাল চার্ট (লেভেল-১)

চার্ট কি 

সাধারণভাবে চার্ট হলো কোন ডাটার ভিজুয়াল উপস্থাপন। এটা যে কোন ডাটার হতে পারে। শেয়ার বাজারে আমরা চার্ট বলতে বুঝি শেয়ার বাজারে শেয়ারের মুল্যের ও ভলিউমের হিস্টোরিক্যাল চার্ট। সকল আর্থিক বাজারে [ক্যাপিট্যাল মার্কেট, ফরেক্স মার্কেট, কমডিটি মার্কেট প্রভৃতি] এই চার্ট ব্যবহার করা হয়। আমরা দেখি যে, শেয়ার বাজারের চার্টে শেয়ার প্রাইস এর পাশাপাশি শেয়ারের ভলিউম ও বিভিন্ন ইন্ডিকেটর চার্টে প্রদর্শন করা হয়ে থাকে। 

টেকনিক্যাল চার্টঃ আর্থিক খাতে ব্যবহৃত যে চার্টে সংশ্লিষ্ট মুল্য, ভলিউম ও বিভিন্ন ইন্ডিকেটর প্রদর্শিত হয় তাঁকে টেকনিক্যাল চার্ট বলে। চার্ট স্ট্যাটিক বা ডাইনামিক/ইন্টার‍্যাক্টিভ হতে পারে। 

স্ট্যাটিক চার্ট একটি স্টকের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একবার জেনারেট করার পর যে কোন পরিবর্তন দেখতে চাইলে সেই পরিবর্তনসহ চার্টটি আবার রিজেনারেট করতে হয়। 

অন্যদিকে ডাইনামিক/ইন্টার‍্যাক্টিভ চার্ট একটি চলমান চার্ট এটা লাইভ আপডেট হতে থাকে যে কোন ধরণের সংকোচন প্রসারণ সম্ভভ। এই চার্ট প্রদর্শনের জন্য নানারকম ফ্ল্যক্সিবিলিটি আছে। 

টেকনিক্যাল চার্ট এর ধরণঃ 

গঠণগত দিক দিয়ে টেকনিক্যাল চার্ট নানা প্রকার হয়ে থাকে, তার মধ্যে ক্যাপিটাল মার্কেটে বহুল ব্যবহৃত টেকনিক্যাল চার্ট গুলো হলো- 

১) ক্যান্ডেলিস্টিক চার্ট 

২) হেইকিনআশি চার্ট

৩) লাইন চার্ট 

৪) বার চার্ট ইত্যাদি 



১) ক্যান্ডেলিস্টিক চার্ট

হোনমা মোনাহিসাকে ক্যান্ডেলিস্টিক বা ক্যান্ডেলিস্টিক চার্ট এর জনকও বলা হয়ে থাকে। শেয়ারের মুল্য প্রবাহের চারটি অবস্থানকে ক্যান্ডেল সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেযথা- ওপেন প্রাইসক্লোজ প্রাইসসর্বোচ্চ প্রাইস এবং সর্বনিন্ম প্রাইস। ওপেন প্রাইস এর মাধ্যমে ক্যান্ডেল শুরু হয় এবং ক্লোজ প্রাইসের মাধ্যমে ক্যান্ডেল পুর্ণাঙ্গতা পায়। গাঠনিকভাবে একটি ক্যান্ডেলের ওপেন ও ক্লোজ প্রাইসের গতিপথকে ক্যান্ডেল বডি এবং সর্বোচ্চ প্রাইজ বা সর্বনিন্ম প্রাইজের অংশকে উইক বা স্যাডো বলে। 

২) হেইকিনআশি চার্ট 

হেইকিনআশি চার্টও হোনমা মোনাহিসা তৈরী করেন। এই চার্ট ক্যান্ডেলিস্টিক চার্টের চেয়ে অনেক মসৃণ। এই চার্টে শর্ট টার্ম ট্রেন্ড যুক্ত থাকে। হেইকিনআশি চার্ট এর ওপেন, হাই, লো, ক্লোজ প্রাইস এর গঠণ ভিন্ন। 

৩) লাইন চার্ট 

এই চার্টে শুধু ক্লোজিং প্রাইস প্রদর্শন করা হয়ে থাকে। ওপেন, হাই এবং লো প্রাইস থাকে না। 

৪) বার চার্ট ইত্যাদি 

বার চার্টেও  ওপেন, হাই, লো, ক্লোজ প্রাইস প্রদর্শিত হয় তবে ক্যান্ডেলিস্টিক এর মত এর বডি থাকে না। 


আবার ডিভিডেন্ড এডজাস্টমেন্ট বিবেচনায় চার্ট ২ প্রকার হয়ে থাকে,  চার্ট গুলো হলো- 

১) আন-এডজাস্টেড চার্টঃ এই চার্টে ডিভিডেন্ড সমন্বয় না করেই প্রাইস প্রদর্শন করা হয়ে থাকে। 

২) এডজাস্টেড চার্টঃ ডিভিডেন্ড সমন্বয় করে এই চার্টে প্রাইস প্রদর্শন করা হয়ে থাকে। কোন চার্টে শুধু স্টক ডিভিডেন্ড সমন্বয় করা থাকে আবার কোন চার্টে স্টক ও ক্যাশ উভয় ডিভিডেন্ড সমন্বয় করা থাকে। 


আন এডজাস্টেড চার্ট
আন এডজাস্টেড চার্ট

এডজাস্টেড চার্ট

এডজাস্টেড চার্ট

টেকনিক্যাল চার্টের ব্যবহারঃ 

চার্ট এর প্রধান ব্যবহার হলো - 

১)  হিস্টোরিক্যাল ডাটার ভিজুয়াল প্রেজেন্টেশন এর জন্য।

২) ডাটার/ মুল্যের ভবিষ্যত পরিবর্তন সম্বন্ধে বিশ্লেষণ এর জন্য।   

৩) ট্রেডিং / বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য। 

মোবাইল বা কম্পিউটারে চার্ট বিশ্লেষণের জন্য ডাইনামিক চার্ট ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যে কোন প্রিন্ট মিডিয়ায় উপস্থাপনের জন্য স্ট্যাটিক চার্ট ব্যবহার করা হয়ে থাকে। টেকনিক্যাল এনালাইসিসের জন্য ডাইনামিক/ইন্টার‍্যাক্টিভ চার্ট এর ব্যবহার সহজ। 

প্ল্যাটফর্মঃ আমাদের দেশের ডিএসই এর শেয়ারের  ডাইনামিক/ইন্টার‍্যাক্টিভ চার্ট দেখার জন্য সুলভ প্ল্যাটফর্ম হলো-

  • আমারস্টক 
  • স্টকনাউ
  • ইনভেস্টরবিডি
  • বুলবিডি
  • লংকাবিডি ইত্যাদি