এই ব্লগটি সন্ধান করুন

টেকনিক্যাল চার্ট (লেভেল-২)

টেকনিক্যাল চার্টঃ 

আর্থিক খাতে ব্যবহৃত যে চার্টে সংশ্লিষ্ট মুল্য, ভলিউম ও বিভিন্ন ইন্ডিকেটর প্রদর্শিত হয় তাঁকে টেকনিক্যাল চার্ট বলে। চার্ট স্ট্যাটিক বা ডাইনামিক/ইন্টার‍্যাক্টিভ হতে পারে। 

ডাইনামিক/ইন্টার‍্যাক্টিভ চার্ট একটি চলমান চার্ট এটা লাইভ আপডেট হতে থাকে যে কোন ধরণের সংকোচন প্রসারণ সম্ভভ। এই চার্ট প্রদর্শনের জন্য নানারকম ফ্ল্যক্সিবিলিটি আছে। এতে অনেক ড্রইং টুলও আছে। মাল্টি টাইমফ্রেমে, স্প্লিট স্ক্রিনে চার্ট দেখার সুবিধা আছে। 

ডাইনামিক/ইন্টার‍্যাক্টিভ চার্ট এর সফটওয়্যারঃ পৃথিবিতে ডাইনামিট চার্টের বহু সফটওয়্যার আছে তার মধ্যে আমাদের দেশে ডিএসই এর চার্ট পাওয়া যায় এমন সফটওয়্যার গুলোর মধ্যে বহুল ব্যবহৃত সফটওয়্যারগুলো হলো- 

ট্রেডিংভিউঃ ট্রেডিং ভিউ বিশ্বের এক নম্বর চার্টিং সফটওয়্যার। এটা সারা বিশ্ব ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে এর নাম সুপার চার্ট। এর কিছু সুবিধা নিম্নরুপ-

  • ওয়েব বেজ 
  • সুপার ফ্ল্যাক্সিবল 
  • সুপার ডাইনামিক 
  • প্রচুর ড্রইং টুল আছে 
  • ইন্ডিকেটরে ভরপুর 
  • ড্রইং সেভ ও এক্সপোর্ট করা যায় 
  • ব্যবহার সহজ
  • এনিপ্লেস এক্সেস 
  • পোর্টফোলিও সেভ করা যায় 
  • ডাটা আপলোডের ঝামেলা নেই 
  • ডাটা এডজাস্টমেন্টের ঝামেলা নেই 
  • পাইন এডিটর* আছে
  • ডাটা পাইরেসির কোন ভয় নেই 
  • সফটওয়্যারটি আধুনিক ল্যাংগুয়েজে তৈরী  

এমিব্রকারঃ এটি একটি ডেস্কটপ বেজ স্ট্যান্ড এলন সফটওয়্যার। এই সফটওয়্যারে ইউজারকে নিজে নিয়মিত ডাটা লোড, এডজাস্টমেন্ট, আওপডেট করতে হয় অথবা কোন ডাটা প্রভাইডারের কাছ থেকে ডাটা কিনতে হয়। তবে এখানে কাস্টমাইজেশনে ও বেসিক কুয়েরি প্রগ্রামের মাধ্যমে অনেক রিসার্স এন্ড ডেভলপমেন্ট এর কাজ করার সুযোগ আছে। এটার পেইড সফটওয়্যার কিনতে পাওয়া যায় আবার পাইরাইটেড কপিও ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা যায়, তবে পাইরাইটেড কপি আপনার ডাটা চুরি করবে এটা নিশ্চিত থাকতে পারেন। এটার ফ্ল্যাক্সিবিলিটি খুবই কম। পুরাতন ল্যাংগুয়েজে তৈরী। 

চার্টের সহজ উৎসঃ ডিএসই এর ডাটা সংবলিত ডাইনামিক চার্টের বেশ কয়েকটি উৎস আছে। এর কয়েকটি হলো-

  • আমারস্টক (ফ্রি+পেইড)
  • স্টকনাউ (ফ্রি+পেইড)
  • ইনভেস্টরবিডি (ফ্রি)
  • লংকাবিডি (ফ্রি) 
  • বুলবিডি (ফ্রি)  
  • ট্রেডিংভিউ (রবিবারের ডাটা নাই) 
  • ইনভেস্টিংডটকম (রবিবারের ডাটা নাই)

মনে রাখবেন ফ্রি জিনিষ খুব বেশি ভাল হয় না। 😀

ট্রেডিংভিউ চার্ট পরিচিতিঃ 

যারা টেকনিক্যালে একেবারেই নতুন তারা ছাড়া সবই ট্রেডিংভিউ চার্ট কমবেশি দেখে অভ্যস্ত। ট্রেডিংভিউ চার্টের পরিচিতিমুলক একটা স্ক্রিনশট দেখি- 




এখানে নাম দেখেই এর ফাংশনগুলো অনুমান করা যাচ্ছে। এর বিস্তারিত লুক ও কার্যপ্রণালি দেখতে যে কোন একটি সাইটে ট্রেডিংভিউ চার্টে প্র্যাক্টিক্যালি দেখার জন্য অনুরোধ রইল। 

উল্লেখ্য যে, চার্টের ভার্টিক্যালি (উপর-নীচে) থাকে প্রাইস আর হরাইজন্টালি (পাশাপাশি) থাকে সময়। প্রাইস শুন্য থেকে শুরু করে বাড়তে থাকে। আর সময় বলতে দুটো বিষয়- একটি হলো পাশাপাশি মোট কত সময়ের বা কতগুলো ক্যান্ডেল দেখাবে সেটা অপরটি হলো এক একটি ক্যান্ডেল কত সময়ের হবে সেটা। একটি ক্যান্ডেল ১ সেকন্ড থেকে শুরু করে ৬ মাসেরও হতে পারে। 

টেকনিক্যাল চার্ট আলোচনায় এই পর্যায়ে আমরা ক্যাপিটাল মার্কেটে বহুল ব্যবহৃত ও সহজবোধ্য ৪ প্রকার টেকনিক্যাল চার্ট সম্পর্কে আলোচনা করব-   

১) ক্যান্ডেলিস্টিক চার্ট 
২) হেইকিনআশি চার্ট
৩) লাইন চার্ট এবং 
৪) বার চার্ট ইত্যাদি 


১) ক্যান্ডেলিস্টিক চার্ট

ক্যান্ডেলিস্টিক চার্ট ক্যন্ডেল এর মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। ক্যান্ডেলিস্টিক চার্টে সুস্পষ্টভাবে সময় ভিত্তিক ওপেন প্রাইস (ওপেন)সর্বোচ্চ প্রাইস (হাই), সর্বনিন্ম প্রাইস (লো), ক্লোজ প্রাইস (ক্লোজ) প্রদর্শন করা হয়। ভলিউম সকল ধরণের চার্টের অবিচ্ছেদ্য অংশ বটে। 


ক্যান্ডেল চার্টের ব্যবহারঃ এই চার্টের অনেক ব্যবহার আছে তার মধ্যে কয়েকটি হলো- 

  • টেকনিক্যাল এনালাইসিসে ক্যান্ডেলিস্টিক চার্ট সবচেয়ে বেশী ব্যবহার করা হয়। 
  • শেয়ার/ফরেক্স বিষয়ক বই, নিবন্ধ, নিউজে ক্যান্ডেলিস্টিক চার্ট ব্যবহার করা হয়। 
  • শেয়ার/ফরেক্স বিষয়ক শিক্ষা কার্যক্রমে ক্যান্ডেলিস্টিক চার্ট ব্যবহার করা হয়। 
  • শেয়ার/ফরেক্স বিষয়ক রিসার্স পাবলিকেশনে ক্যান্ডেলিস্টিক চার্ট ব্যবহার করা হয়। 
ক্যান্ডেল চার্টের সুবিধাঃ
  • ওপেন, হাই, লো, ক্লোজ বোঝা সহজ 
  • প্রাইস মুভমেন্ট বোঝা সহজ
  • ট্রেডিং সিদ্ধান্ত গ্রহন সহজ
  • সর্বাধিক প্রচলিত 
ক্যান্ডেল চার্টের ওসুবিধাঃ
  • ট্রেন্ড ইনকর্পোরেটেড না 
  • ক্যন্ডেলের শ্যাডো ড্রইংএ কনফিউশন তৈরী করে  
  • ট্রেন্ড ইনকর্পোরেটেড না 

২) হেইকিনআশি চার্ট 

হেইকিনআশি চার্ট এর ওপেন, হাই, লো, ক্লোজ প্রাইস এর গঠণ ভিন্ন। 

ওপেন = (আগের বারের ওপেন+ আগের বারের ক্লোজ) / ২ 

হাই = কারেন্ট পিরিয়ডের হাই/ওপেন/ক্লোজের সর্বোচ্চ ভ্যালু 

লো = কারেন্ট পিরিয়ডের লো/ওপেন/ক্লোজের সর্বোনিম্ন ভ্যালু

ক্লোজ = (ওপেন + হাই + লো + ক্লোজ ) / ৪ 


হেইকিনআশি চার্টের ব্যবহারঃ এই চার্টের অনেক ব্যবহার আছে তার মধ্যে কয়েকটি হলো- 

  • টেকনিক্যাল এনালাইসিসে হেইকিনাশি চার্ট ব্যবহার করা হয়। 
  • শেয়ার/ফরেক্স বিষয়ক বই, নিবন্ধ, নিউজে হেইকিনাশি চার্ট ব্যবহার করা হয়। 
  • শেয়ার/ফরেক্স বিষয়ক শিক্ষা কার্যক্রমে হেইকিনাশি চার্ট ব্যবহার করা হয়। 
  • শেয়ার/ফরেক্স বিষয়ক রিসার্স পাবলিকেশনে হেইকিনাশি চার্ট ব্যবহার করা হয়। 
হেইকিনআশি চার্টের সুবিধাঃ
  • ট্রেন্ড ইনকর্পোরেটেড
  • শর্ট টার্ম, মিড টার্ম প্রাইস ট্রেন্ড বোঝা সহজ
  • ট্রেডিং সিদ্ধান্ত গ্রহন সহজ
  • ক্যান্ডেলিস্টিক চার্টের চেয়ে অনেক মসৃণ 
হেইকিনআশি চার্টের ওসুবিধাঃ

  • দিনের ওপেন, হাই, লো, ক্লোজ বোঝা কঠিন  
  • এই ক্যন্ডেলের শ্যাডো ড্রইংএ কনফিউশন তৈরী করে  

৩) লাইন চার্ট 

এই চার্টে শুধু ক্লোজিং প্রাইস প্রদর্শন করা হয়ে থাকে। ওপেন, হাই এবং লো প্রাইস থাকে না। 


লাইন চার্টের ব্যবহারঃ এই চার্টের অনেক ব্যবহার আছে তার মধ্যে কয়েকটি হলো- 

  • টেকনিক্যাল এনালাইসিসে লাইন চার্ট ব্যবহার করা হয়। 
  • শেয়ার/ফরেক্স বিষয়ক বই, নিবন্ধ, নিউজে লাইন চার্ট ব্যবহার করা হয়। 
  • শেয়ার/ফরেক্স বিষয়ক শিক্ষা কার্যক্রমে লাইন চার্ট ব্যবহার করা হয়। 
  • শেয়ার/ফরেক্স বিষয়ক রিসার্স পাবলিকেশনে লাইন চার্ট ব্যবহার করা হয়। 
লাইন চার্টের সুবিধাঃ
  • যেসব ড্রয়িং ক্যান্ডেল বা হেইকিন আশি চার্টে কঠিন, সেটা ক্লোজিং চার্টে সহজ 
  • ডয়িং এ কনফিউশন তৈরী করে না 
  • ক্লোজিং প্রাইসে ডিসিশনের ক্ষেত্রে ব্যবহার সহজ 
লাইন চার্টের ওসুবিধাঃ

  • দিনের ওপেন, হাই, লো, ক্লোজ বোঝা যায়না  
  • ট্রেন্ড ইনকর্পোরেটেড না 
  • গ্যাপ আপ ওপেনিং বোঝা যায় না। 

৪) বার চার্ট ইত্যাদি 

বার চার্টেও  ওপেন, হাই, লো, ক্লোজ প্রাইস প্রদর্শিত হয় তবে ক্যান্ডেলিস্টিক এর মত এর বডি থাকে না। 


বার চার্টের ব্যবহারঃ 

অন্যান্য চার্টের মত এই চার্টেরও অনেক ব্যবহার আছে তবে আমাদে দেশে এই চার্টের ব্যবহার খুব কম। 

বার চার্টের সুবিধাঃ 

  • বার চার্টের সুবিধা তুলনামুলক কম 
বার চার্টের অসুবিধাঃ 
  • ভিজুয়াল পারসেপশন তুলনামুলক কঠিন 
  • বার চার্টে ড্রইং কঠিন 
  • ডয়িং এ কনফিউশন তৈরী করে  
  • ট্রেন্ড ইনকর্পোরেটেড না 
এডজাস্টেড ও আন-এডজাস্টেড চার্ট এর তুলনামূলক আলোচনাঃ 
এডজাস্টেড                                    আন-এডজাস্টেড
ডিভিডেন্ড এডজাস্ট করা থাকে।                 ডিভিডেন্ড এডজাস্ট করা থাকে না ।
সাপোর্ট রেজিস্টেন্স ভাল কাজ করে।             সাপোর্ট রেজিস্টেন্স ভাল কাজ করে না। 
ড্রইং করা সহাজ                               ড্রইং করা কঠিন 
ট্রেন্ড লাইন আঁকা সহাজ                        ট্রেন্ড লাইন আঁকা কঠিন 


ড্রয়িং এর নিয়ম + টিপসঃ 

  • প্রতিদিন সব চার্ট দেখা
  • একধরণের চার্ট দেখে অভ্যস্ত হওয়া  
  • একাধিক টাইম ফ্রেমে চার্ট দেখা 
  • চোখ কে ট্রেইন করা  
  • ক্লোজিং ক্যান্ডেলে ডয়িং করা 
  • লাইন যেন ক্যান্ডেলের বডি ক্রস না করে 
  • একাধিক টাইম ফ্রেমে ড্রয়িং করা  
  • ড্রেন্ড বিহীন চার্ট থেকে দূরে থাকা 
  • হিজিবিজি চার্টে ড্র না করা 
  • কনফিউশন হলে লাইন চার্টে ড্র করা 
  • জোর করে ড্রইং না মেলানো 
  • যত ড্র করেবে ততই শিখবে