ট্রেন্ডঃ
যে ছেলেটা ছোট বেলায় বানরের তৈলাক্ত বাঁশের অংক করে ১০ এ ১০ পেয়েছে তাকে ট্রেন্ড শেখানোর দুঃসাহস আমি দেখাব না। অংকটা মনে করুন--
১) বানর যখন তৈলাক্ত বাঁশে ৩ ফুট উঠে ১ ফুট করে নামে তখন সেটাকে বলে আপ ট্রেন্ড।
২) বানর যখন তৈলাক্ত বাঁশে ১ ফুট উঠে ৩ ফুট করে নামে তখন সেটাকে বলে ডাউন ট্রেন্ড।
৩) বানর যখন বাঁশের উপরে বা নীচে চুপ করে বসে বিশ্রাম নেয় তখন সেটাকে বলে সাইডওয়ে ট্রেন্ড।
মনে রাখবেন, বানর যখন চলে যায় তখন থাকে শুধু তৈলাক্ত বাঁশ যা অবুঝ বিনিয়োগকারীদের জন্য বিপদজনক।
ট্রেন্ডের বাংলা হলো প্রবণতা বা ঝোঁক। টেকনিক্যাল এনালাইসিসে ট্রেন্ড বলতে একটি শেয়ারে দাম কোন দিকে যাছে যেমন উপরের দিকে না নীচের দিকে না পাশাপাশি চলেছে সেটা বোঝায়।
ট্রেন্ডের ধরণঃ
ট্রেন্ড ৩ প্রকার, যথা-
১) আপ ট্রেন্ড
২) ডাউন ট্রেন্ড এবং
৩) সাইডওয়ে ট্রেন্ড।
আপ ট্রেন্ডঃ একটি শেয়ার যখন ধারাবাহিকভাবে উপরের দিকে যেতে থাকে এবং নতুন নতুন হাই করতে থাকে তখন তাকে আপ ট্রেন্ড বলে।
ডাউন ট্রেন্ডঃ একটি শেয়ার যখন ধারাবাহিকভাবে নীচের দিকে যেতে থাকে এবং নতুন নতুন লো করতে থাকে তখন তাকে ডাউন ট্রেন্ড বলে।
সাইডওয়ে ট্রেন্ডঃ একটি শেয়ার যখন উপর বা নীচের দিকে না গিয়ে একটা রেঞ্জে বা পাশাপাশে চলতে থাকে তখন তাকে সাইডওয়ে ট্রেন্ড বলে।
আমেরিকার ফাইনান্সিয়াল জার্নালিস্ট চার্লস ডাউ প্রথম ট্রেন্ডের ধারণা দেন এবং তার ডাউ থিওরির জন্য তিনি ক্যাপিটাল মার্কেটে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
ট্রেন্ড হলো একজন ট্রেডারের বন্ধু। আপ ট্রেন্ডের শেয়ার বাই করতে পারলে যেমন লস হবার সম্ভাবনা কম তেমনি ডাউন ট্রেন্ডের শেয়ার হাতে ধরে রাখলে লস ততই বাড়তে থাকে।
ট্রেন্ডের ব্যবহারঃ
১) একটি শেয়ারের প্রাইসের গতিপথ নির্ধারণ করতে/জানতে।
২) একটি শেয়ারে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে।
৩) শেয়ার বাই সেল করতে ইত্যাদি।
ট্রেন্ড ব্যবহার করে যেহেতু বাই সেল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় সেহেতু এটা যে খুব গুরুত্বপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এডভান্স লেভেলে ট্রেন্ড এর বিভিন্ন ধরণ ও এর ব্যবহার ও সুবিধা অসুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
ট্রেন্ডের আরো নানা দিক যেমন- স্ট্রং ট্রেন্ড, উইক ট্রেন্ড, ট্রেন্ড রিভার্সাল ইত্যাদি নানাবিধ বিষয় লেভেল-২ তে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
