এই ব্লগটি সন্ধান করুন

অন্যান্য ধারণা (লেভেল-১)

মার্কেট সাইকেলঃ

একটি শেয়ার কম প্রাইসে প্রথমে একুমুলেশন/কনসলিডেশন (কালেকশন) হয়, তারপর দাম বৃদ্ধি পায়/মার্কআপ হয় তারপর শেয়ারটির ডিস্ট্রিবিউশন হয় এর পর শেয়ারটির দাম আবার পড়তে থাকে/মার্কডাউন হয়। এই চারটি ধাপ ধারবাহিকভাবে একবার সম্পন্ন হওয়াকে মার্কেট সাইকেল বলে। 



মার্কেট সাইকেলের ধাপ ৪টি হলোঃ 
১) একুমুলেশন/কনসলিডেশন (কালেকশন)
২) দাম বৃদ্ধি/মার্কআপ 
৩) ডিস্ট্রিবিউশন এবং 
৪) মার্কডাউন/পতন 

বিপদজনক পতন/ড্যাঞ্জারাস ড্র-ডাউনঃ  
শেয়ার মার্কেটে এটা এক মজার জিনিষ। ছোট বেলার ঐকিক নিয়মের অংক বটে। 
ধরুন আপনি ১০০ টাকার একটি ট্রেডে ১০% লাভ করলেন, ইকুইটি হলো ১১০, পরবর্তী ট্রেডে ১০% লস করলেন তাহলে আপনার ইকুটি দাঁড়ালো কত? ১০০ না ১০০ এর কম না বেশী। উত্তরটা হলো কম [৯৯]। সমান % লাভ লস করেও ইকুটি কমে যায়। 
আবার ধরুন আপনি ১০০ টাকার একটি ট্রেডে ৫০% লস করেছেন তাহলে অবশিষ্ট টাকার উপর কত % প্রফিট করলে আবার ১০০ টাকায় পৌঁছাতে পারবেন? হাঁ, এবার আপনাকে অবশিষ্ট টাকার উপর ১০০% প্রফিট করতে হবে। লস করলেন ৫০% কিন্তু ইকুটি ফেরাতে লাভ করতে হবে ১০০%। 

ইকুইটি যদি নামে         মুনাফা করতে হবে 
    ১০%                        ১১%
    ২০%                        ২৫%
    ৩০%                        ৪৩%
    ৪০%                        ৬৭%
    ৫০%                        ১০০%
    ৬০%                        ১৫০%
    ৭০%                        ২৩৩%
    ৮০%                        ৪০০%
    ৯০%                        ৯০০%

এখন ভেবে দেখুন ইকুইটি বাঁচানো কত জরুরী। এজন্য আমাদেরকে স্টপলস ও টেক প্রফিট শিখতে হবে। এই ঘটনাটিকে বিপদজনক পতন/ড্যাঞ্জারাস ড্র-ডাউন বলে। 

স্টপলস ও টেকপ্রফিটঃ 
স্টপলস হলো একটি পুর্বনির্ধারিত প্রাইস, যে প্রাইস পর্যন্ত একজন ট্রেডার লস সহ্য করতে চায়। ধরুন আপনি ১০০ টাকায় একটি শেয়ার কিনলেন, আপনি ১০% লস সহ্য করতে চান/পারবেন তাহলে আপনার ঐ শেয়ারের ক্ষেত্রে স্টপ লস প্রাইস হলো ৯০টাকা। 
আর টেকপ্রফিট হলো একটি পুর্বনির্ধারিত প্রাইস, যে প্রাইসে শেয়ারের দাম পৌঁছালে একজন ট্রেডার প্রফিট নিতে চায়। ধরুন আপনি ১০০ টাকায় একটি শেয়ার কিনলেন, আপনি ১৫% লাভ করতে চান তাহলে আপনার ঐ শেয়ারের ক্ষেত্রে টেকপ্রফিট প্রাইস হলো ১১৫ টাকা। 

রিস্ক রিউয়ার্ড রেশিওঃ  

রিস্ট রিউয়ার্ড রেশিও হলো সেই রেশিও, যে অনুপাতে আপনি একটি ট্রেডে রিস্ক নিতে চান ও তার বিপরীতে মুনাফা আশা করেন। 

ধরুন আপনি একটি ট্রেড নিলেন, যেখানে আপনি ১০% লস করতে রাজি আছেন এবং ২০% মুনাফা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এখানে সম্ভাব্য রিস্ক(লস) হলো ১০% আর রিউয়ার্ড(মুনাফা) হলো ২০%, এদের অনুপাত হলো ১০ঃ২০ অর্থাৎ ১ঃ২। 

ঝুকি যা নেবেন অবশ্যই তার দিগুন লাভের সম্ভাবনা থাকতে হবে অন্যথায় ট্রেড বর্জন করাই ভালো। 

মানি ম্যানেজমেন্ট 

মানি ম্যানেজমেন্ট হলো পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্টের পার্ট। এটা পোর্টফোলিকে স্ট্যাবল রাখাতে সাহায্য করে। ট্রেডিংএ অনেকে এটাকে ক্যাস/লিকুইডিটি ম্যনেজমেন্টও বলে। 

মানি ম্যানেজমেন্ট অনেক ভাবে করা যেতে পারে যেমন রিস্কবেজড, ফ্ল্যাট ইত্যাদি। তবে ফ্ল্যাট মানি ম্যানেজমেন্ট ট্রেডারদের কাছে অনেক জনপ্রিয় কারণ এর হিসাব সহজ। 

ফ্ল্যাট মানি ম্যানেজমেন্ট হলো ইকুটিকে সমান কয়েকটি ভাগে ভাগ করে একেকটি ভাগ একেকটি ট্রেডে ব্যবহার করা। যেমন ধরুন আপনার ইকুইটি হলো ২০০ টাকা, একে সমান ১০টি ভাগে ভাগ করে প্রতি ট্রেডে ২০ টাকা করে বিনিয়োগ করা।