টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর কি?
টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর হলো টেকনিক্যাল এনালাইসিসের টুল, যার মাধ্যমে কোন শেয়ারের অতীত সময়ের প্রাইস ও ভলিউমের ডাটা বিশ্লেষণ
করে শেয়ারের ভবিষ্যৎ মূল্য ও ট্রেন্ড সনাক্ত করা হয়। টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর নির্দিষ্ট গাণিতিক গণনার উপর ভিত্তি করে গঠিত।
টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর সমুহ
শেয়ারবাজারে বিশ্লেষকগণ বিভিন্ন ধরণের
ইন্ডিকেটর বা সূচক ব্যবহার করে থাকে, যেমন-
- মুভিং এভারেজ
- মুভিং এভারেজ কনভারজেন্স ডাইভারজেন্স
- এভারেজ ট্রু রেঞ্জ
- রিলেটিভ স্ট্রেন্থ ইন্ডেক্স
- বলিঙ্গার ব্যান্ডস
- স্টকাস্টিক
ওসিলেটর
- ফিবোনেসি রিট্ট্রেসমেন্ট
- ভলিউম ইত্যাদি
মুভিং এভারেজ
মুভিং এভারেজ সূচকটি একটি
নির্দৃষ্ট সময়কালের মধ্যে একটি শেয়ার প্রাইসের গড় গণনা করে একটি গড় গতিপথ উপস্থাপন
করে যা প্রাইস প্রবণতাকে সনাক্ত করে। মুভিং এভারেজ সাধারণত দুই প্রকার, যথা-
- সিম্পল মুভিং এভারেজ
- এক্সপোনেনশিয়াল মুভিং এভারেজ
মুভিং এভারেজ কনভারজেন্স ডাইভারজেন্স (এমএসিডি)
মুভিং এভারেজ কনভারজেন্স ডাইভারজেন্স, দুইটি লাইন দ্বারা গঠিত। একটি ট্রেন্ড ফলোয়িং ইন্ডিকেটর, যার একটি লাইনকে মুভিং এভারেজ কনভারজেন্স ডাইভারজেন্স লাইন এবং অপরটিকে
সিগন্যাল লাইন বলে। মুভিং এভারেজ কনভারজেন্স ডাইভারজেন্স লাইনটি দুইটি এক্সপোনেনশিয়াল মুভিং
এভারেজ এর পার্থক্যকে উপস্থাপন করে এবং সিগন্যাল লাইনটি এমএসিডি লাইনের একটি স্মুথ এভারেজকে উপস্থাপন করে।
এভারেজ ট্রু রেঞ্জ
এভারেজ ট্রু রেঞ্জ কোন একটি শেয়ারের
হাই ও লো প্রাইসের গড় কে উপস্থাপন করে যার মাধ্যমে শেয়ারের অস্থিরতাকে সনাক্ত করা
হয়।
রিলেটিভ স্ট্রেন্থ ইন্ডেক্স
রিলেটিভ স্ট্রেন্থ ইন্ডেক্স কোন একটি শেয়ারের মূল্যের গতি ও এর মাত্রা পরিমাপ করে। এটা সাম্প্রতিক সময়ে অবমুল্যায়িত না অতিমুল্যায়িত তা নির্দেশ করে।রিলেটিভ স্ট্রেন্থ ইন্ডেক্স এর মান ০ থেকে ১০০ এর মধ্যে অবস্থান করে।
বলিঙ্গার ব্যান্ডস
তিনটি ব্যান্ডের মাধ্যমে বলিঙ্গয়ার ব্যান্ডস ইন্ডিকেটরটি শেয়ারের অস্থিরতা ও সম্ভাব্য প্রাইস ব্রেকআউট সনাক্ত করতে সাহায্য করে। মাঝের ব্যান্ড-টি সিম্পল মুভিং এভারেজ কে নির্দেশ করে এবং উপর ও নিচের ব্যান্ড দুইটি প্রাইসের স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশনকে নির্দেশ করে। জন বলিঙ্গার নামক একজন টেকনিক্যাল ট্রেডার এই ইন্ডিকেটরটি তৈরী করেন।
স্টকাস্টিক ওসিলেটর
এই ইন্ডিকেটরটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের
মধ্যে একটি শেয়ার প্রাইসের সীমার সাথে তুলনা করে যা ০ থেকে ১০০ এর মধ্যে চলমান
দুটি লাইন %ডি এবং %কে দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।
ফিবোনাচ্চি রিট্ট্রেসমেন্ট
এই ইন্ডিকেটর দ্বারা কোন একটি শেয়ারের প্রাইস চার্টের সম্ভাব্য সাপোর্ট ও রেজিস্টেন্সকে সনাক্ত করা হয়, যা ফিবোনাচ্চি রাশির উপর ভিত্তি করে উপস্থাপিত হয়। ফিবোনাচ্চি রাশি গুলো হলো ২৩.৬%, ৩৮.২%, ৫০%, ৬১.৮%, ৭৮.৬%, ১০০% ইত্যাদি।
ভলিউম
ইন্ডিকেটর হিসেবে ভলিউম খুবই গুরুত্বপুর্ণ এবং
কার্যকরী যা শেয়ারের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষকগণ সর্বদায় ব্যবহার করে থাকে। এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লেনদেন হওয়া শেয়ারের সংখ্যা পরিমাপ করে।
টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটরের ভাগঃ
টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর ইন্ডিকেটরগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়, যথা-
১) লিডিং ইন্ডিকেটর
- আরএসআই
- স্টকাস্টিক
- উইলিয়াম %আর
- ওবিভি ইত্যাদি
২) ল্যাগিং ইন্ডিকেটর
- মুভিং এভারেজ
- এমএসিডি
- বলিঙ্গার ব্যান্ড ইত্যাদি
টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটরের ব্যবহারঃ
· এর মাধ্যমে শেয়ারের ভবিষ্যৎ মুল্য বৃদ্ধি ও হ্রাসের সংকেত পাওয়া যায় ।
· এর কোন একটি শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের সিদ্ধান্তকে পরিপক্ক করে।
· এর মাধ্যমে স্টপ লস এবং টেক প্রফিট পয়েন্ট সনাক্ত করা হয়।
· এর মাধ্যমে শেয়ার বাই সেল সিদ্ধান্ত করা যায়।
টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর ব্যবহার করে যেহেতু বাই সেল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় সেহেতু ইন্ডিকেটর যে খুব গুরুত্বপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এডভান্স লেভেলে টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর এর বিভিন্ন ধরণ ও এর ব্যবহার ও সুবিধা অসুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।