বিশ্বাসের রীতি যাকে ইংরেজিতে বলে বিলিভ সিসটেম। মানুষ বুঝে বা না বুঝে যাই বিশ্বাস করুক না কেন, তা তার চিন্তাভাবনা ও কার্যকলাপ/আচরণকে প্রভাবিত করে।
বিশ্বাসের রীতি খুব মজার,
যদি কেউ বিশ্বাস করে যে সে চ্যাম্পিয়ন হবে তবে তার চ্যাম্পিয়ন হবার শতভাগ গ্যারান্টি নেই, কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হবে এই বিশ্বাস না করে কেউ চ্যাম্পিয়ন হতে পারে না। আর যে বিশ্বাস করে যে সে চ্যাম্পিয়ন হবে সে চ্যম্পিয়ন হবার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যকলাপ করতে থাকে এবং সে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও অবশ্যই চ্যাম্পিয়নের অনেক গুনাগুন অর্জন করে।
ইতিবাচক চিন্তাভাবনা (পজিটিভ থিংকিং) সফলতার গ্যারান্টি দেয়না তবে নেতিবাচক চিন্তাভাবনা (নেগেটিভ থিংকিং) বিফলতার গ্যারান্টি দেয়।
তুমি আসলে ততটুকুই পাবে যতটুকু তুমি চিন্তা করতে পার ও তা পাওয়ার জন্য কাজ করো।
আর তুমি যা বিশ্বাস (বিলিভ) করো, যা চিন্তা (থিংক) করো সে অনুযায়ীই গঠিত হয় তোমার মনোভাব (এটিটুড) এবং সে মোতাবেকই তোমার কার্যকলাপ/ব্যবহার পরিচালিত হয়।
চারিদিকে সফলতার বৃষ্টি হচ্ছে, তুমি যদি এই সফলতা ধরতে চামচ পেতে দাও তবে চামচে করে পাবে, যদি মগ পেতে দাও তবে মগে করে পাবে, যদি বালতি পেতে দাও তবে বালতিতে করে পাবে। বিষয়টা হচ্ছে তুমি সফলতা ততটুকুই পাবে যতটুকু তোমার ধারণ করার ক্ষমতা আছে।
ধর তুমি আজ এক লক্ষ টাকা আয় কর। যদি তুমি বিশ্বাস করো যে তোমার দুই লক্ষ টাকা আয় করার সম্ভাবনা আছে এবং চিন্তা করতে থাকো তবে তোমার ব্রেইনই তোমাকে বলে দেবে যে তুমি কি করলে বা কিভাবে তুমি দুই লক্ষ টাকা আয় করতে পারো।
একটা মজার কথা হলো ব্রেইন হলো খুবই অলস ও বদমাইশ প্রকৃতির।ব্রেইন ততক্ষণ তোমাকে কিছু বলবে না যতক্ষণ তুমি তাকে কোন প্রশ্ন না করো। তুমি প্রশ্ন করলে তবেই সে উত্তর দেবে। তুমি যদি জিজ্ঞাসা করো যে কিভাবে তুমি আয় বাড়াতে পারো, তবেই কেবল ব্রেইন সেই প্রশ্নের উত্তর খুজে তোমাকে দেবে অন্যথায় বলবে না।
সফল হতে হলে অবশ্যই মাথা খাটাতে হবে। হাত পা চালিয়ে অর্থাৎ কায়িক শ্রমে যদি বড় সফলতা আসতো তবে আমাদের দেশের রিকশাওয়ালারা আজ সবচেয়ে সফল থাকার কথা ছিল। আসলে মুখের নীচের অংশের শ্রম দিয়ে শুধু মুখের আহার জোটানো সম্ভব। তার চেয়ে বেশি কিছু করতে চাইলে মুখের উপরের অংশের অর্থাৎ মাথা কে খাটাতে হবে।
দীর্ঘ দিনের বিলিভ সিস্টেম আর থট প্রসেস থেকে গড়ে ওঠে এটিটুড। এই এটিটুডই নির্দেশ করে যে একজন মানুষ কোন পথে পরিচালিত হবে বা কি ধরণের আচরণ করবে।
এটিটুডের একটা মাজার উদাহরণ শুনুন-
বনের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাণী হলো হাতী, সবচেয়ে দ্রতগামী প্রাণী হলো চিতাবাঘ, সবচেয়ে উচু প্রাণী হলো জিরাফ, সবচেয়ে চালাক প্রাণী হলো শিয়াল কিন্তু মজার বিষয় হলো এদের কেউই বনের রাজা নয়, বনের রাজা হলো সিংহ। রাজা হতে হলে কিছুতে সেরা হওয়ার দরকার নেই বরং রাজার হওয়ার এটিটুড দরকার।
একটা হাতী/জিরাফ যদি একটা সিংহ দেখে তবে তারা ভাবে এই সিংহটি আমাদের খেয়ে ফেলবে পালাও (ডিফেন্সিভ) অন্যদিকে সিংহ যখন হাতী/জিরাফ দেখে তখন ভাবে এটাতো খাবার ধরো এবং খাও (এটাকিং)। এইযে মনোভাব/চিন্তাভাবনা/বিশ্বাসের তফাত থেকে নির্ধারিত হয় যে কে হবে রাজা আর কে হবে প্রজা।
জানেন কি, আমরা শিক্ষা জীবনে যা পড়ি তার ৯০ ভাগই বাস্তব জীবনে কাজে লাগে না, আর যা কাজে লাগে তার ৯০ ভাগই আমাদের পড়ানো হয় না।
মানুষ দেখে বা না দেখে যা বিশ্বাস করে তা থেকে তৈরী হয় মানুষের থট-প্রসেস আর থট-প্রসেস থেকে রেবিয়ে আসে এটিটুড আর এই এটিটুডই হলো মানুষের আচরণের নিয়ন্ত্রক।
২০১০ সালের আগ পর্যন্ত ক্রিকেটাররা বিশ্বাস করত যে, ওয়ানডে ক্রিকেটে ২০০ রান করা সম্ভব না। ২০১০ সালের আগে ক্রিকেটাররা কেউ ২০০ রান করতেও পারত না। ২০১০ সালে যখন শচীন টেন্ডুলকার ২০০ রান করল তার পর সবাই বিশ্বাস করা শুরু করে যে শচীন টেন্ডুলকার করেছে, চেষ্টা করলে আমরাও পারব। এর পর অনেকেই ২০০ রান করেছে। তারা পেরেছে কারণ তাদের বিলিভ সিস্টেমে পরিবর্তন এসেছে। রোহিত শর্মা ৩ বার ২০০ রান করেছে।
১৯৫৪ সালের আগ পর্যন্ত সবাই বিশ্বাস করত যে, ৪ মিনিটের কম সময়ে ১ মাইল দৌড়ানো সম্ভব না। ১৯৫৪ সালের আগে কেউ পারেওনি। ১৯৫৪ সালে রজার ব্যানিস্টার ৪ মিনিটের কম সময়ে যখত ১ মাইল দৌড় সম্পন্ন করল তার পর থেকে এথলেটরা বিশ্বাস করে যে, এটা সম্ভব। এর পর হাজারো মানুষ ৪ মিনিটের কম সময়ে ১ মাইল দৌড় সম্পন্ন করেছে। এমনকি স্কুলে যাওয়া বাচ্চাও এটা করে দেখিয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে কারণ এখন তাদের বিলিভ সিস্টেমে পরিবর্তন এসেছে।
হাতির বিশ্বাসের উদাহরন শুনুন -
হাতি তার পায়ের চিকন শিকলটা কেন ছিঁড়তে পারে না তার কারণ জানেন কি? তবে শুনুন।
হাতি যখন বাচ্চা ছিল, তখন সে ছিল খুব দরুন্ত। তখন তাকে চিকন একটি সিকল দিয়ে বাঁধা হয়েছিল। সে খুব চেষ্টা করেও সেই চিকন শিকলটি তখন ছিঁড়তে পারেনি। সে অনেকবার চেষ্টা করেও যখন চিকন শিকলটি ছিঁড়তে পারেনি তখন থেকে সে বিশ্বাস করে যে এই শিকল তার পক্ষে ছেঁড়া সম্ভব না। এরপর দিন বদলেছে, বাচ্চা হাতিটি অতিকায় বড় হয়েছে, অনেক শক্তিশালী হয়েছে, এখন সেই চিকন শিকল ছেঁড়ার ক্ষমতা তৈরী হয়েছ। তারপরও হাতিটি সেই চিকন শিকলটি ছিঁড়তে পারে না কারণ সে বিশ্বাস করে যে এই শিকল তার পক্ষে ছেঁড়া সম্ভব না, আর সে জন্য সে আর কখনো চেষ্টাও করে দেখে না। এজন্যই হাতি তার পায়ের চিকন শিকলটি ছিঁড়তে পারে না।