এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বিনিয়োগ কি? বিনিয়োগ কতপ্রকার ও কি কি? (লেভেল-১)

বিনিয়োগ কি?

বিনিয়োগ হলো এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে অর্থ বা সম্পদকে নির্দিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে মূল্যমান বাড়িয়ে তোলা বা মূল্যমান বৃদ্ধি করে মুনাফা অর্জন করা। বিনিয়োগ ব্যক্তিগত এবং প্রতিষ্ঠানিক উভয় স্তরেই হতে পারে। যেমনঃ রিয়েল এস্টেট / জমি / কোন পণ্য / স্বর্ণ / শেয়ার / ফিক্সড ডিপোজিট / সঞ্চয়পত্র  ইত্যাদি ক্রয় করে পরে তা বিক্রি করা।  

মেয়াদ অনুযায়ী বিনিয়োগ কতপ্রকার ও কি কি?

মেয়াদ অনুযায়ী বিনিয়োগ তিন (৩) প্রকার, যথা-

১. স্বল্প মেয়াদী বিনিয়োগ (Short-Term Investment):

২. মধ্যম মেয়াদী বিনিয়োগ (Medium-Term Investment):

৩. দীর্ঘ মেয়াদী বিনিয়োগ (Long-Term Investment):

১. স্বল্প মেয়াদী বিনিয়োগ (Short-Term Investment):

যে সকল বিনিয়োগ ০-২ বছরের জন্য অর্থাৎ অপেক্ষাকৃত কম সময়ের জন্য করা হয় তাকে স্বল্প মেয়াদী বিনিয়োগ বলে। অর্থাৎ এই ধরণের বিনিয়োগ অল্প মেয়াদে প্রযোজ্য হয় এবং যার লভ্যাংশের প্রত্যাশাও সাধারণভাবে কম হয়স্বল্প মেয়াদী বিনিয়োগের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে ০-২ বছরের জন্য শেয়ার/সিকিউরিটিজ, মিউচুয়াল ফান্ডস ইত্যাদিতে বিনিয়োগ করা।  এই ধরণের বিনিয়োগ প্রায়শঃ ব্যক্তিগত লক্ষ্যের জন্য উপযোগী হয়।

২. মধ্যম মেয়াদী বিনিয়োগ (Medium-Term Investment):

যে সকল বিনিয়োগ ২-৫ বছরের জন্য অর্থাৎ মধ্যম মেয়াদের জন্য করা হয় তাকে মধ্যম মেয়াদী বিনিয়োগ বলে। যেমন শেয়ার/ সিকিউরিটিজ, মিউচুয়াল ফান্ডস, বন্ড, ফিক্সড ডিপোজিট, সঞ্চয়পত্র স্থানীয় বাজারের মুদ্রা, রিয়েল এস্টেট ট্রেডিং ইত্যাদিতে মধ্যম মেয়াদের জন্য বিনিয়োগ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে, বিনিয়োগ মুনাফা বা লভ্যাংশের প্রত্যাশা মাঝারি মানের হয়ে থাকে। এই ধরণের বিনিয়োগ প্রায়শঃ ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানিক লক্ষ্যের জন্য উপযোগী হয়

 ৩. দীর্ঘ মেয়াদী বিনিয়োগ (Long-Term Investment):

যে সকল বিনিয়োগ ৫ বছরের অধিক সময়ের জন্য অর্থাৎ দীর্ঘ মেয়াদের জন্য করা হয় তাকে দীর্ঘ মেয়াদী বিনিয়োগ বলে। যেমন শেয়ার, সিকিউরিটিজ, মিউচুয়াল ফান্ডস, বন্ড, পেনশন প্ল্যানফিক্সড ডিপোজিট,  সঞ্চয়পত্র প্রতিষ্ঠানিক মিউচুয়াল ফান্ডস, স্বর্ণ, রিয়েল এস্টেট ইত্যাদিতে দীর্ঘ মেয়াদের জন্য বিনিয়োগ করা যেতে পারে। এধরনের বিনিয়োগ মুনাফা বা লভ্যাংশের প্রত্যাশা সর্বোচ্চ হয়ে থাকে। এই ধরণের বিনিয়োগ প্রায়শঃ ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানিক লক্ষ্যের জন্য উপযোগী হয় 

তবে শেয়ার/ফরেক্স মার্কেটে লেনদেনের স্থায়ীত্বকাল অনুযায়ী এর সাধারন শ্রেণীবিভাগ হলো-
০ মিনিট থেকে ৬০ মিনিট = কাল্পিং,
৬০ মিনিট থেকে ২৪ ঘন্টা = ডে ট্রেডিং
৭ দিন থেকে ৯০ দিন = ট্রেডিং
৯০ দিনের বেশী সময় = বিনিয়োগ   

[উল্লেখ্য যে, এই স্থায়ীত্বকাল ভিত্তিক শ্রেণী বিভাগ নিয়ে বিভিন্ন লেখকের মধ্যে মতভেদ আছে]  


বিনিয়োগের উদ্দেশ্যঃ  

এক কথায় বলতে গেলে, বিনিয়োগের উদ্দেশ্য হলো সম্পদের ভবিষ্যৎ বৃদ্ধি অর্থাৎ মুনাফা বা লাভ। আবার বিনিয়োগের উদ্দ্যশ্য সমাজ/দেশ/জনসেবাও হতে পারে। শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগের উদ্দেশ্য হলো মুনাফা। এটা ডিভিডেন্ড বা ক্যাপিট্যাল গেইন এর মাধ্যমে হতে পারে। দীর্ঘ/মধ্য মেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ডিভিডেন্ড ও ক্যাপিটাল গেইন দুটোই জরুরী তবে স্বল্প মেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত ক্যাপিটাল গেইনই মুখ্য। 

বিনিয়োগের ঝুকিঃ   

এক কথায় বলতে গেলে, বিনিয়োগের ঝুকি হলো বিনিয়োগে লস করার সম্ভাবনা বা কাংখিত মুনাফা না পাওয়ার সম্ভাবনা। শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগের ঝুকির সাধারণ কারণ/ক্ষেত্রগুলো হলো- 
১) কোম্পানির ডিভিডেন্ড এর পরিমাণ
২) কোম্পানিতে কোন দুর্ঘটনা  
৩) ডলারের মুল্য বৃদ্ধি 
৪) ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধি 
৫) ইনফ্লেশন 
৬) রাজনৈতিক অস্থিরতা 
৭) বৈশ্বিক যুদ্ধ/অবরোধ ইত্যাদি