এই ব্লগটি সন্ধান করুন

রিস্ক ম্যানেজমেন্ট (লেভেল-২)

 রিস্ক ম্যানেজমেন্টঃ 

খুব সহজ ভাষায় বললে রিস্ক বলতে যে কোন কাজের ঝুকিকে বোঝায়, আর এই রিস্ক/ঝুকিকে ম্যানেজ করার কৌশলকে রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বলে। এখন প্রশ্ন হলো শেয়ার ব্যবসায় রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কি? উত্তরে খুব সাধারণভাবে বললে, শেয়ারে বিনিয়োগ করলে লস হওয়ার ঝুকি আছে, আর শেয়ারে লস হওয়ার এই ঝুকিকে ম্যানেজ করার কৌশলই হলো রিস্ক ম্যানেজমেন্ট।  

এক এক কাজের ঝুকি এক এক ভাবে ম্যানেজ করা হয়। তেমনি শেয়ার ব্যবসার রিস্ক ম্যানেজ করারও অনেক কৌশল আছে। এখানে তার কয়েকটি সম্বন্ধে আলোচনা করা হলো। 

শেয়ার ব্যবসায় রিস্ক ম্যানেজ করার কৌশলগুলো হলো- 

১) যথাযথ এনালাইসিসের পর ট্রেড/বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া 

২) পোর্টফলিও ডাইভারসিফিকেশন করা 

৩) যথাযথভাবে মানি ম্যানেজমেন্ট করা 

৪) সময়মত এসএল/টিপি এক্সিকিউশন করা 

৫) স্টপ লস নিতে দিধা না করা 

৬) সোশাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকা 

৭) নিউজ ট্রেড না করা 

৮) গুজবে কান না দেওয়া  

৯) নিজের আবেগ (ভয়/লোভ) নিয়ন্ত্রন করা 

১০) নিজে টেকনিক্যাল/ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস শেখা অথবে প্রফেশনালের সাহায্য নেওয়া 

এবার প্রতিটি কৌশল নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা যাক- 

১) যথাযথ এনালাইসিসের পর ট্রেড/বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়াঃ এনালাইসিস ছাড়া শেয়ার কেনা আর অন্ধকারে ঝাপ দেওয়া একই কথা। শেয়ার বাজার ছাড়াও যে কোন বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের জন্য প্রথম কাজটি হলো এনালাইসিস করা। 

২) পোর্টফলিও ডাইভারসিফিকেশন করাঃ পোর্টফোলিও ডাইভারসিফিকেশন বলতে সব টাকা একটি শেয়ারে বিনিয়োগ না করে কয়েকটি শেয়ারে বিনিয়োগ করাকে বোঝানো হয়েছে। এক্ষত্রে প্রতিটি শেয়ারে ১০-২০% করে বিনিয়োগ করলে ঝুকি কমে, লস মিনিমাইজ এবং প্রফিট অপ্টিমাইজ হয়। 

৩) যথাযথভাবে মানি ম্যানেজমেন্ট করাঃ  মানি ম্যানেজমেন্ট বলতে লিকুইডিটি ম্যানেজ করার কথা বোঝানো হয়েছে। হোক সে ট্রেডার বা ইনভেস্টর তার পোর্টফোলিতে কিছু লিকুড মানি সবসময় থাকতেই হবে। যেটা তার দুঃসময়ে কাজে দেবে অথবা আরো ভালো কোন অপরচুনিটি কাজে লাগাতে সাহায্য করবে।

৪) সময়মত এসএল এক্সিকিউশন করাঃ ইকুটি রক্ষা করা ও লস মিনিমাইজ করার এটা একটা বড় হাতিয়ার হলো এসএল কাজেই সময় মত এসএল নিতে হবে।   

৫) স্টপ লস নিতে দিধা না করাঃ স্টপ লস নিতে যেয়ে দিধা করলে পরে বড় লস নিতে হয়, সেজন্য এসএল নিতে কোন দিধা করা যাবে না।  

৬) সোশাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকাঃ সোশাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকলে কেউ আপনাকে শেয়ার ফিড করার চান্স পাবে না। আপনি লসের হাত থেকে বাঁচবেন।

৭) নিউজ ট্রেড না করাঃ নিউজে ট্রেড করলে, আজ হোক আর কাল হোক একদিন না একদিন বেশি দামে আপনার হাতে শেয়ার ধরিয়ে দিয়ে নিউজ দাতারা বের হয়ে যাবে। তারপর নিউজ ট্রেডার সেটা নিয়ে মাথা চাপড়াবে।   

৮) গুজবে কান না দেওয়াঃ গুজবে কান দিয়ে শেয়ার বেচাকেনা করলে স্মার্ট মানি হোল্ডাররা প্রয়োজনে কম দামে শেয়ার নিয়ে যাবে আবার বেশি দামে হাতে ধরিয়ে দিয়ে যাবে।   

৯) নিজের আবেগ (ভয়/লোভ) নিয়ন্ত্রন করাঃ ভয় দূর না করলে কম প্রফিটে শেয়ার ছেড়ে দিতে হয়ে আর লোভ দূর না করলে বেশি দামে শেয়ার চেজ করে ঠকেতে হয়।  

১০) নিজে টেকনিক্যাল/ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস শেখা অথবে প্রফেশনালের সাহায্য নেওয়াঃ হয় নিজে ডাক্তার হতে হবে অথাবা ডাক্তারের সাহায্য নিতে হবে নইলে আপনি আপনার সন্তানের চিকিৎসা করতে পারবেন না। আপনার কষ্টার্জিত টাকা আপনার সন্তানের মত দরদের কজেই হয় এনালাইসিস শিখুন অথাবা এনালিস্টের সাহায্য নিয়ে বিনিয়োগের ঝুকি কমান, বিনিয়োগ নিরাপদ রাখুন।   

রিস্ক ম্যানেজমেন্টের সুবিধাঃ 

১) বিনিয়োগে ঝুকি কমে

২) বিনিয়োগ সুরক্ষিত থাকে 

৩) ড্যাঞ্জারাস ড্রডাউনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় 

৪) বিনিয়োগে মুনাফার ধারাবাহিকতা থাকে 

৫) বিনিয়োগ নিয়ে চিন্তা মুক্ত থাকা যায় 

রিস্ক ম্যানেজমেন্টের অসুবিধাঃ 

১) প্রফিট ম্যাক্সিমাইজ না হয়ে অপ্টিমাইজ হয় 

২) খুব দ্রুত গতিতে পোর্টফোলিও বড় করা যায় না 

৩) ইচ্ছামত যে কোন শেয়ার কেনা বেচা করা যায় না 


রিস্ক-রিউয়ার্ড রেশিওঃ 

যেটুকু লসের ঝুকি নিতে চান সেটুকু হলো রিস্ক আর যেটুকু লাভ করতে চান সেটুকু হলো রিউয়ার্ড। আর এই দুটোর রেশিও/অনুপাত হলো রিস্ক রিউয়ার্ড রেশিও। 

ধরুন একজন ১০০ টাকার শেয়ার কিনল। সে এই ট্রেডে ১০ টাকা লস করতে রাজি আছে যেখানে ২০ টাকা লাভের সম্ভাবনা আছে। তাহলে তার লস ও লাভের সম্ভাবনার অনুপাত হলো ১০ঃ২০ অর্থাৎ ১ঃ২ । এটাই হল তার এই ট্রেডের রিস্ক রিউয়ার্ড রেশিও। 

এখন প্রশ্ন হলো রিস্ক-রিউয়ার্ড রেশিও কত হওয়া উচিৎ? 

উত্তর হলো- রিস্ক-রিউয়ার্ড রেশিও ১ঃ১ এর নীচে হলে সেই ট্রেড থেকে বিরত থাকা ভাল। 

রিস্ক-রিউয়ার্ড রেশিও মেনে চলার সুবিধাঃ 

১) বিনিয়োগে ঝুকি কমে

২) প্রফিটিবিলিটি বাড়ে 

৩) ট্রেডে সময় নষ্ট কম হয় 

৪) প্রফিট টু টার্ণওভার রেশিও ভাল হয় 

৫) রিস্কি ট্রেড কম হয় ফলে মানসিক চাপ কমে 

রিস্ক-রিউয়ার্ড রেশিও মেনে চলার অসুবিধাঃ 

১) মন চাইলেই অনেক শেয়ার কেনা বেচা করা যায় না 

২) ছোট ছোট অনেক ট্রেড মিস হতে পারে 

৩) অনেক সময় ট্রেড পেতে দেরী হয়