এই ব্লগটি সন্ধান করুন

ভলিউম (লেভেল-২)

ভলিউমঃ 

শেয়ারের ভলিউম আমরা সবাই কমবেশি বুঝি। ভলিউম বলতে কয়টা শেয়ার বিক্রি হয়েছে সেটা বোঝায়। আবার অনেকে কতটাকার শেয়ার বিক্রি হয়েছে সেটাকে বোঝায় তবে এটাকে টার্ণওভার বলাই ভাল। টেকনিক্যাল চার্টে আমরা বিক্রিত মোট শেয়ারের সংখ্যা ও কত টাকায় বিক্রি হয়েছে তা দেখতে পাই। টেকনিক্যাল চার্টে নীচে আমরা যে ভলিউমটা দেখতে পাই সেটা মতাদর্শের ভিন্নতার কারণে এক সাইট থেকে অন্য সাইটে আলাদা পরিলক্ষিত হতে পারে। অর্থাৎ কোন সাইট মোট কয়টা শেয়ার বিক্রি হয়েছে সেটাকে ভলিউম হিসাবে দেখায় আবার কোন সাইট মোট কত টাকার শেয়ার বিক্রি হয়েছে সেটাকে ভলিউম হিসাবে দেখায়। ভলিউম এত গুরুত্বপূর্ণ যে এটা টেকনিক্যাল চার্টের একটি ডিফল্ট ফিচার। 

এই পর্যায়ে ভলিউম বলতে আমরা প্রাইস-ভলিউম এনালাইসিস শিখবঃ 

প্রাইস ভলিউম এনালাইসিস বলতে প্রাইসের সাথে ভলিউমের সম্পর্ককে বোঝায়। প্রাইসের সাথে যেমন ডিমান্ড ও সাপ্লাই এর একটা সম্পর্ক আছে তেমনি প্রাইসের সাথে ভলিউমের একটা নিবিড় সম্পর্ক আছে।

প্রাইস ভলিউম গোল্ডেন রুলঃ 

প্রাইস             ভলিউম              অর্থ / তাৎপর্য  

বাড়লে             বাড়লে                 বুলিশ 

বাড়লে             কমলে                 বিয়ারিশ 

কমলে             কমলে                 বুলিশ 

কমলে             বাড়লে                 বিয়ারিশ 

কিছু জিনিষ সকল এনালাইসিসে কাজে লাগে, প্রাইস-ভলিউম এনালাইসিস তার একটি। প্রাইস ভলিউম একমুখী হলে ঠিক আছে আর বিপরীতমুখী মানেই ঝামেলা আছে, সতর্ক হতে হবে। 

ট্রেন্ডকে একটি চার্টের হার্ট বলা হয় অন্যদিকে ভলিউমকে একটি চার্টের প্রাণ বলা হয়। একটি চার্ট দেখার সময় প্রথম যে বিষয়টি দেখতে হয় সেটা হলো তার প্রাইস ট্রেন্ড, ২য় যে বিষয়টি দেখতে হয় সেটি হলো তার ভলিউম। কাজেই ভলিউম কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝতে পেরেছেন নিশ্চয়। আপনার অনেক এনালাইসিস/প্রজেকশন ব্যর্থ হতে পারে যদি সেই এনালাইসিসের সময় প্রাইস ভলিউম এনালাইসিস কন্সিডার না করে থাকেন। ভলিউম এনালাইসিএর জন্য আপনার চোখকে ট্রেইন্ড করা বেশি জরুরী, যাতে আপনাকে এক মুহুর্ত চিন্তা করতে না হয়। 

প্রাইস ভলিউম এনালাইসিস ক্যান্ডেল টু ক্যান্ডেল এবং সেশন টু সেশন করা যেতে পারে। ক্যান্ডেল টু ক্যান্ডেল প্রাইস ভলিউম ইফেক্ট পরবর্তী এক বা একাধিক ক্যান্ডেলে বেশী দৃশ্যমান হয়ে থাকে। নীচে ক্যান্ডেল টু ক্যান্ডেল প্রাইস-ভলিউম এনালাইসিসের একটি উদাহরণ দেখানো হলো। 

প্রাইস-ভলিউম ডাইভারজেন্সঃ 

সেশন টু সেশন প্রাইস-ভলিউম এনালাইসিস বলতে প্রাইস-ভলিউম ডাইভারজেন্স এনালাইসিসকে বোঝানো হয়ে থাকে। ডাইভারজেন্স হলো বৈপরীত্য। এখানে প্রাইস আর শেয়ারের দামের বৈপরীত্যকে বোঝানো হয়েছে। নীচে প্রাইস-ভলিউম ডাইভারজেন্স এর একটি উদাহরণ দেখানো হলো, যেখানে প্রাইস ক্রমান্বয়ে বেড়েছে কিন্তু ভলিউম বাড়েনি (ডাইভারজেন্স) ফলে পরবর্তী সেশনটিতে বিয়ারিশ প্রাইস পরিলক্ষিত হয়েছে। 


প্রাইস-ভলিউম এর ব্যবহারঃ
১) পরবর্তী ক্যান্ডেলের ধরণ অনুমান করতে 
২) প্রফিট টেকিং এর সিদ্ধান্ত নিতে। 
৩) এস এল এর সিদ্ধান্ত নিতে। 
৪) ক্যাস পজিশন বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে। 
৫) শেয়ার পজিশন কমানো বা বাড়ানোর সিদ্ধাত নিতে। 
৬) স্মার্ট মানি মুভমেন্ট সম্বন্ধে ধারণা পেতে
৭) বাই-সেল করতে।   

প্রাইস-ভলিউম ব্যবহার করে যেহেতু বাই সেল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় সেহেতু এটা যে খুব গুরুত্বপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রাইস-ভলিউম ট্রেডিং স্ট্যাটেজি লেভেল-৩ তে আলোচনা করা হয়েছে।