এই ব্লগটি সন্ধান করুন

টেকনিক্যাল ট্রেন্ড (লেভেল-২)

    ট্রেন্ডঃ ট্রেন্ডের বাংলা হলো প্রবণতা বা ঝোঁক। টেকনিক্যাল এনালাইসিসে ট্রেন্ড বলতে একটি শেয়ারে দাম ক্রমাগত/ধারাবাহিকভাবে কোন দিকে যাছে যেমন উপরের দিকে না নীচের দিকে না পাশাপাশি চলেছে সেটা বোঝায়। 

ট্রেন্ডের ধরণঃ  

ট্রেন্ড ৩ প্রকার, যথা- 
১) আপ ট্রেন্ড
২) ডাউন ট্রেন্ড এবং
৩) সাইডওয়ে ট্রেন্ড। 

আপ ট্রেন্ডঃ একটি শেয়ার যখন ধারাবাহিকভাবে উপরের দিকে যেতে থাকে এবং নতুন নতুন হাই করতে থাকে তখন তাকে আপ ট্রেন্ড বলে।

ডাউন ট্রেন্ডঃ একটি শেয়ার যখন ধারাবাহিকভাবে নীচের দিকে যেতে থাকে এবং নতুন নতুন লো করতে থাকে তখন তাকে ডাউন ট্রেন্ড বলে। 

সাইডওয়ে ট্রেন্ডঃ একটি শেয়ার যখন উপর বা নীচের দিকে না গিয়ে একটা রেঞ্জে বা পাশাপাশে চলতে থাকে তখন তাকে সাইডওয়ে ট্রেন্ড বলে। নীচের চিত্রে একটি সাইডওয়ে ট্রেন্ড দেখানো হয়েছে। 

সময়ের দিক থেকে ট্রেন্ডকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়, যথা - 

১) শর্ট টার্ম ট্রেন্ডঃ 

এটা ২ থেকে ৩ সপ্তাহের ট্রেন্ড তবে ৩ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। নীচের চিত্রে ব্লু লাইন দিয়ে শর্ট টার্ম আপ ট্রেন্ড ও বাদামী লাইন দিয়ে শর্ট টার্ম ডাউন ট্রেন্ড ড্র করা হয়েছে।  

২) ইন্টার মিডিয়েট ট্রেন্ডঃ 

একটা ট্রেন্ডের মধ্যে লুকায়িত অপেক্ষাকৃত ছোট ট্রেন্ডকে ইন্টারমিডিয়েট ট্রেন্ড বলে। এটা আপ বা ডাউন বা উভয় সময়ে থাকতে পারে। একটা লং টার্ম ট্রেন্ডের মধ্যে একাধিক শর্ট টার্ম ট্রেন্ড থাকে এবং একটি শর্ট টার্ম ট্রেন্ডের মধ্যেও ছোট লুকায়িত ট্রেন্ড থাকে। এই লুকায়িত ট্রেন্ডকে ইন্টারমিডিয়েট ট্রেন্ড বলা হয়ে থাকে।

নীচের চিত্রে প্রথম শর্ট টার্ম ট্রেন্ডের মধ্যেও স্পষ্ট ইনার আপ ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে, তেমনি ২য় শর্ট ডাউন ট্রেন্ডের মধ্যেও স্পষ্ট ইনার ডাউন ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে, এগুলোই হলো ইন্টারমিডিয়েট ট্রেন্ড। 

৩) লং টার্ম ট্রেন্ডঃ 

এটা ৭ থেকে ৯+ মাসের ট্রেন্ড তবে কয়েক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। নীচের চিত্রে কালো ট্রেন্ড লাইনটি দিয়ে একটি লং টার্ম আপ ট্রেন্ড ড্র করা হয়েছে। 

শক্তিমত্তার দিক থেকে ট্রেন্ডকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়, যথা - 

১) স্ট্রং/শক্তিশালী ট্রেন্ডঃ যখন কোন শেয়ারর মুল্য ধারাবাহিকভাবে এমএ-২০ এর উপরে থাকে তখন তাকে স্ট্রং আপ ট্রেন্ড বলে। আবার যখন শেয়ারর মুল্য ধারাবাহিকভাবে এমএ-২০ এর নীচে থাকে তখন তাকে স্ট্রং ডাউন ট্রেন্ড বলে। এ ধরণের ট্রেন্ড সাধারণত অল্প/মাঝারী সময়ের জন্য চলমান থাকে।  নীচের চিত্রে একটি শক্তিশালী আপট্রেন্ড দেখানো হয়েছে। 

২) এনাফ/যথেষ্ট ট্রেন্ডঃ যখন কোন শেয়ারর মুল্য ধারাবাহিকভাবে এমএ-৫০ এর উপরে থাকে তখন তাকে এনাফ আপ ট্রেন্ড বলে। আবার যখন শেয়ারর মুল্য ধারাবাহিকভাবে এমএ-৫০ এর নীচে থাকে তখন তাকে এনাফ ডাউন ট্রেন্ড বলে।  এ ধরণের ট্রেন্ড সাধারণত মাঝারী/লম্বা সময়ের জন্য চলমান থাকে। নীচের চিত্রে একটি যথেষ্ট ডাউন ট্রেন্ড দেখানো হয়েছে।   

৩) উইক/দুর্বল ট্রেন্ডঃ যখন কোন শেয়ারর মুল্য ধারাবাহিকভাবে এমএ-২০০ এর উপরে থাকে তখন তাকে দুর্বল আপ ট্রেন্ড বলে। আবার যখন শেয়ারর মুল্য ধারাবাহিকভাবে এমএ-২০০ এর নীচে থাকে তখন তাকে দুর্বল ডাউন ট্রেন্ড বলে।  এ ধরণের ট্রেন্ড সাধারণত লম্বা সময়ের জন্য চলমান থাকে। নীচের চিত্রে একটি দুর্বল আপট্রেন্ড দেখানো হয়েছে। 


ট্রেন্ড সনাক্ত করণঃ 

ট্রেন্ড লাইন দ্বারাঃ শেয়ার যখন উপরের দিকে উঠতে থাকে তখন লো গুলো দিয়ে লাইন টানলে আমরা আপ ট্রেন্ড পাই আবার যখন নীচের দিকে নামতে থাকে তখন উপরের পয়েন্টগুলো দিয়ে লাইন টানলে আমরা ডাউন ট্রেন্ড পাই। আবার একটি শেয়ার যখন সাইডে চলতে থাকে তখন আপ পয়েন্টগুলো দিয়ে একটি লাইন এবং লো পয়েন্টগুলো দিয়ে আর একটি লাইন টানলে একটা রেঞ্জ পাই এটাই সাইডওয়ে ট্রে্ন্ড।  

ট্রেন্ড লাইন ড্র করার নিয়মঃ 
১) ক্যান্ডেল বডি দিয়ে বা লাইন চার্টে ড্র করা ভাল। 
২) ট্রেন্ড লাইন ড্র করার আগে চার্ট জুম আউট করে নিতে হবে যাতে নুন্যতম ৩০০+ ক্যান্ডেল থাকে 
৩) আমাদের মার্কেটে শ্যাডো ধরে লাইন ড্র না করাই ভাল । 
৪) হায়ার লো (নূন্যতম ২টি ) গুলো দিয়ে লাইন টানা   [আপ ট্রেন্ড] 
৫) লওয়ার হাই (নূন্যতম ২টি ) গুলো দিয়ে লাইন টানা  [ডাউন ট্রেন্ড]
৬) পয়েন্ট যত বেশি হয় ট্রেন্ড ততই নির্ভরযোগ্য হয় ।
৭) ৫/৭ বার সুইং এর পর ট্রেন্ড রিভার্স করার সম্ভাবনা বেশী থাকে।
৮) ট্রেন্ড লাইন টানার সময় যেন কোন ক্যান্ডেলের বডি ক্রস না করে 
৯) চাপাচাপি/জোর করে ট্রেন্ড লাইন ড্র করা থেকে বিরত থাকতে হবে 
১০) সবগুলো সুইং লো বা সুইং হাইতে টাচ করা লাগবেই এমন নয় 
১১) যতক্ষন প্রাইস ফ্রেশ হাই বা লো তৈরী না করে ততক্ষন লাইন বাড়াতে হবে।  


মুভিং এভারেজ দ্বারাঃ মুভিং এভারেজ দ্বারা খুব সহজেই ট্রেন্ড সনাক্ত করা যায়। একটি চার্টে এমএ-২০, ৫০ ও ২০০ প্লট করার পর যদি দেখা যায় যে- 

    শেয়ারের নীচের প্রাইস বটমগুলো এমএ-২০ এর উপর একাধিকবার বাউন্স করেছে তবে এটা শর্ট টার্ম আপট্রেন্ড হিসাবে ধরা হয়, শেয়ারের উপরের প্রাইস পিকগুলো এমএ-২০ থেকে একাধিকবার নীচে ফিরে এসেছে তবে এটা শর্ট টার্ম ডাউনট্রেন্ড হিসাবে ধরা হয় এবং শেয়ারের প্রাইস যদি বারবার এমএ-২০ এর উপর নীচে যায় তবে এটা শর্ট টার্ম  সাইডওয়ে ট্রেন্ড হিসাবে ধরা হয়। 

    শেয়ারের নীচের প্রাইস বটমগুলো এমএ-৫০ এর উপর একাধিকবার বাউন্স করেছে তবে এটা মিড টার্ম আপট্রেন্ড হিসাবে ধরা হয়, শেয়ারের উপরের প্রাইস পিকগুলো এমএ-৫০ থেকে একাধিকবার নীচে ফিরে এসেছে তবে এটা মিড টার্ম ডাউনট্রেন্ড হিসাবে ধরা হয় এবং শেয়ারের প্রাইস যদি বারবার এমএ-৫০ এর উপর নীচে যায় তবে এটা মিড টার্ম  সাইডওয়ে ট্রেন্ড হিসাবে ধরা হয়। 

    শেয়ারের নীচের প্রাইস বটমগুলো এমএ-২০০ এর উপর একাধিকবার বাউন্স করেছে তবে এটা লং টার্ম আপট্রেন্ড হিসাবে ধরা হয়, শেয়ারের উপরের প্রাইস পিকগুলো এমএ-২০০ থেকে একাধিকবার নীচে ফিরে এসেছে তবে এটা লং টার্ম ডাউনট্রেন্ড হিসাবে ধরা হয় এবং শেয়ারের প্রাইস যদি বারবার এমএ-২০০ এর উপর নীচে যায় তবে এটা লং টার্ম  সাইডওয়ে ট্রেন্ড হিসাবে ধরা হয়। 

টাইম ফ্রেমের বিবেচনায় ট্রেন্ডকে প্রতিটি বেঞ্চমার্ক টাইমের বিবেচনায় উপস্থাপন করা যায়, যেমন - 
১) আওয়ারলি ট্রেন্ডঃ আওয়ারলি চার্টে যে ট্রেন্ড পরিলক্ষিত হয় তাকে আওয়ারলি ট্রেন্ড বলে।  
২) ডেইলি ট্রেন্ডঃ ডেইলি 
চার্টে যে ট্রেন্ড পরিলক্ষিত হয় তাকে ডেইলি ট্রেন্ড বলে।   
৩) উইকলি ট্রেন্ডঃ উইকলি চার্টে যে ট্রেন্ড পরিলক্ষিত হয় তাকে উইকলি ট্রেন্ড বলে।    
৪) মান্থলি ট্রেন্ডঃ মান্থলি চার্টে যে ট্রেন্ড পরিলক্ষিত হয় তাকে মান্থলি ট্রেন্ড বলে।   
এছাড়াও, ফরেক্সে মিনিট চার্ট, ১৫মিনিট চার্ট,  ৪আওয়ার চার্ট ও সংশ্লিষ্ট ট্রেন্ড ডে ট্রেডারদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। আমাদের দেশে ডিএসই-তে আওয়ারলি, ডেইলি ও উইকলি বেশ কার্যকর, মান্থলি চার্টে স্পষ্ট অর্থ পাওয়া কঠিন।  

ট্রেন্ড রিভার্সালঃ  
১) নতুন হাই তৈরীর মাধ্যমে একটি শেয়ার ডাউন ট্রেন্ড থেকে আপ ট্রেন্ডে যায়। 
২) নতুন লো তৈরীর মাধ্যমে একটি শেয়ার আপ ট্রেন্ড থেকে ডাউন ট্রেন্ডে যায়।  
৩) সাইডওয়ে বা রেঞ্জের শেয়ার আপ বা ডাউন সাইডে ব্রেক করার মাধ্যমে ট্রেন্ড পরিবর্তিত হয়।  

নীচের চিত্রে নতুন হাই তৈরীর মাধ্যমে ডাউন ট্রেন্ড রিভার্স করে আপ ট্রেন্ড এর উদাহরণ দেখানো হয়েছে। 

নীচের চিত্রে নতুন লো তৈরীর মাধ্যমে আপ ট্রেন্ড রিভার্স করে ডাউন ট্রেন্ড এর উদাহরণ দেখানো হয়েছে। 


নীচের চিত্রে ব্রেকআউট এর মাধ্যমে সাইডওয়ে ট্রেন্ড রিভার্স করে আপ ট্রেন্ড এর উদাহরণ দেখানো হয়েছে। 

ট্রেন্ড রিভার্সাল
প্যাটার্ণের মধ্যে নির্ভরযোগ্য প্যাটার্ণ গুলো হলো - 
১) হেড এন্ড শোল্ডার, রিভার্স হেড এন্ড শোল্ডার 
২) ডাবল টপ, ডাবল বটম এবং 
৩) ট্রিপল টপ, ট্রিপল বটম 
    ট্রেন্ড রিভার্সাল প্যাটার্ণ নিয়ে প্যাটার্ণ চ্যাপ্টারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।  

ট্রেন্ড কন্টিনিউয়েশন প্যাটার্ণের মধ্যে নির্ভরযোগ্য প্যাটার্ণ গুলো হলো - 
১) পিনাট 
২) ফ্ল্যাগ 
৩) এসেন্ডিং ট্রায়াংগাল ইত্যাদি 
    ট্রেন্ড কন্টিনিউয়েশন প্যাটার্ণ নিয়ে প্যাটার্ণ চ্যাপ্টারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।  

ট্রেন্ড কারেকশন / কাউন্টার ট্রেন্ডঃ 
একটি শেয়ার যদি ট্রেন্ডে থাকে তবে স্বল্প সময়ের জন্য প্রফিট টেকিং হতে পারে, তখন শেয়ারটি কিছুটা পথ ট্রেন্ড অক্ষুন্ন রেখে চলমান ট্রেন্ডের বিপরীত দিকে চলে এই বিপরীত দিকে চলার অংশটুকুকে ট্রেন্ডের কারেকশন বা কাউন্টার ট্রেন্ড বা প্রফিট টেকিং বলে। ততক্ষণ ট্রেন্ডের কারেকশন বা কাউন্টার ট্রেন্ড বা প্রফিট টেকিং হিসাবে গণ্য করা হয় যতক্ষণ না একটি আপ ট্রেন্ডের শেয়ার নতুন লো তৈরী করে বা একটি ডাউন ট্রেন্ডের শেয়ার নতুন হাই তৈরী করে।  নীচের চিত্রে একটি আপ ট্রেন্ডের শেয়ারে কারেকশন পয়েন্টগোলো দেখানো হলো। 

ট্রেন্ড সুইং ফেইলুরঃ 
একটি আপ ট্রেন্ডের শেয়ার যদি নতুন হায়ার হাই করতে ব্যার্থ হয় বা একটি ডাউন ট্রেন্ডের শেয়ার যদি নতুন লো তৈরী করতে ব্যার্থ হয় তবে এটাকে ট্রেন্ড সুইং ফেইলুর বলা হয়। সুইং ফেইলুর চলমান ট্রেন্ডের সমাপ্তির একটা পূর্বাভাষ। 

ট্রেন্ডের 
সমাপ্তিঃ   
একটি শেয়ার যদি ট্রেন্ডে থাকে তবে স্বল্প সময়ের জন্য প্রফিট টেকিং হতে পারে। তবে যদি একটি আপ ট্রেন্ডের শেয়ার নতুন লো তৈরী করে বা একটি ডাউন ট্রেন্ডের শেয়ার নতুন হাই তৈরী করে তবে এটাকে ট্রেন্ডের সমাপ্তি হিসাবে ধরা হয়। শর্ট টার্মে দেখা গেলে শর্ট টার্মের সমাপ্তি, ইন্টারমিডিয়েটে দেখা গেলে ইন্টারমিডিয়েট টার্মের সমাপ্তি, লং টার্মে দেখাগেলে লং টার্মের সমাপ্তি বলা যেতে পারে।  


ট্রেন্ডের ব্যবহারঃ   
১) শেয়ার প্রাইসের গতিপথ জানতে। 
২) শেয়ার প্রাইসের গতির শক্তিমত্তা জানতে। 
৩) শেয়ারে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে।  
৪) শেয়ার বাই সেল করতে। 
৫) ডাইনামিক সাপোর্ট-রেজিস্টেন্স নির্ধারণ করতে ইত্যাদি। 

ট্রেন্ড ব্যবহার করে যেহেতু বাই সেল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় সেহেতু এটা যে খুব গুরুত্বপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। টেকনিক্যাল এনালাইসিস লেভেল-৩ তে ট্রেন্ড লাইন ট্রেডিং স্ট্র্যটেজি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।