সাপোর্ট রেজিস্টেন্সঃ একটি শেয়ারের যখন মুল্য বাড়ে ও কমে তখন বাড়তে বাড়তে যে ছোট বড় পিক (চড়াই) তৈরী করে এবং যখন মুল্য কমে তখন কমার সময় নীচের দিকে যে ছোট বড় নীচের-প্রান্ত (উতরাই) তৈরী করে এই এগুলোকে একএকটি প্রাইস লেভেল বলে। এই লেভেল গুলো দিয়ে যখন আমরা কোন হরাইজন্টাল লাইন, ট্রেন্ড লাইন আঁকি তখন আমরা সাপোর্ট রেজিস্টেন্স লাইন / জোন পাই।
সাপোর্ট হলো এমন একটি প্রাইস লেভেল যেখানে শেয়ারের বাই-প্রেসার যথেষ্ট শক্তিশালী থাকে এবং এর ফলে প্রাইস আর কমতে চায় না। এটিকে প্রাইস চার্টের নিচের দিকের তল হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং শেয়ারের চাহিদা বাড়ায় উক্ত তল থেকে প্রাইস বাউন্স করে উপরের দিকে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে।
রেজিস্টেন্স হলো সাপোর্টের জাস্ট বিপরীত অবস্থা। এই প্রাইস লেভেলটি প্রাইস চার্টের উপরের দিকে সিলিং হিসেবে কাজ করে এবং এক্ষেত্রে শেয়ারের সেল-প্রেসার যথেষ্ট শক্তিশালী থাকে, ফলে প্রাইস আর বাড়তে চায় না এবং প্রাইস রেজিস্টেন্স বা সিলিং-এ বাধাগ্রস্থ্ হয়ে নিচের দিকে ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকে। সাপোর্ট-রেজিস্টেন্স কোন লাইন নয় বরং একটি জোন, যে জোনে প্রাইস উপর বা নীচ থেকে বাধাপ্রাপ্ত হয়।
সাপোর্ট
রেজিস্টেন্স এর ধরণঃ সাপোর্ট-রেজিস্টেন্স স্ট্যাটিক অথবা ডাইনামিক হতে পারে।
স্ট্যাটিকঃ এটি একটি ফিক্সড প্রাইস লেভেল যা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয় না। হরিজন্টাল সাপোর্ট-রেজিস্টেন্স হলো এর উদাহরণ।
হরিজন্টাল সাপোর্ট রেজিস্টেন্সঃ যখন চার্টে কোন প্রাইস লেভেল হরিজন্টালি আঁকা হয় তখন তাকে হরিজন্টাল সাপোর্ট-রেজিস্টেন্স জোন বলে।
উপরের চিত্রে ১ নং পয়েন্ট থেকে একটি হরাইজন্টাল প্রাইস
লেভেল আঁকা হয়েছে। এই হরাইজন্টাল প্রাইস লেভেলটি ২ নং পয়েন্টে সাপোর্ট হিসাবে কাজ করেছে,
৩ নং পয়েন্টে সাপোর্ট ভেংগে গেছে এবং ৪ নং পয়েন্টে রেজিস্টেন্স হিসাবে কাজ করেছে।
ট্রেন্ড লাইন সাপোর্ট রেজিস্টেন্সঃ ট্রেন্ড লাইন যখন সাপোর্ট-রেজিস্টেন্সের মত কাজ করে তখন তাকে ট্রেন্ড লাইন [ডাইনামিক] সাপোর্ট-রেজিস্টেন্সও বলা যেতে পারে। কারণ সময়ের সাথে সাথে এই সাপোর্ট-রেজিস্টেন্সের প্রাইস লেভেল পরিবর্তন হতে থাকে।
চিত্রে
যে ট্রেন্ড লাইন দেখা যাচ্ছে সেখানে ৩-৬ পর্যন্ত প্রাইস ট্রেন্ড লাইনের উপর সাপোর্ট
পেয়েছে, ৬ নং পয়েন্টের পর সাপোর্ট ব্রেক করেছে এবং ৭ নং পয়েন্টে একই ট্রেন্ড লাইন আবার
রেজিস্টেন্স হিসাবে কাজ করেছে। প্রাইস ট্রেন্ড লাইনে বাধাপ্রপ্ত হয়ে নীচের দিকে নামতে
শুরু করেছে।
মুভিং এভারেজ সাপোর্ট রেজিস্টেন্সঃ মুভিং এভারেজ যখন সাপোর্ট-রেজিস্টেন্সের মত কাজ করে তখন তাকে মুভিং এভারেজ [ডাইনামিক] সাপোর্ট-রেজিস্টেন্স বলা যেতে পারে। কারণ সময়ের সাথে সাথে এই সাপোর্ট-রেজিস্টেন্সের প্রাইস লেভেল পরিবর্তন হতে থাকে।
উপরের চার্টে একটি এমএ ৫০ সেট করা হয়েছে। যেখানে ১ ও
২ নং পয়েন্টে এমএ ৫০ রেজিস্টেন্স হিসাবে কাজ করেছে, ৩ নং পয়েন্টে রেজিস্টেন্স ভেংগে
গেছে, ৪ নং পয়েন্টে সাপোর্ট হিসাবে কাজ করেছে এবং ৫ নং পয়েন্টে আবার সাপোর্ট ভেংগে
গেছে যা পরবর্তীতে ৬ থেকে ১০ নং পয়েন্ট পর্যন্ত রেজিস্টেন্স হিসাবে কাজ করেছে।
আমাদের মার্কেটে এমএ ২০, ৫০ ও ২০০ ডাইনামিক সাপোর্ট-রেজিস্টেন্স হিসাবে ভাল কাজ করে। এমএ ২০ শর্ট টার্ম, এমএ ৫০ মিড টার্ম ও এমএ ২০০ লং টার্ম সাপোর্ট-রেজিস্টেন্স হিসাবে ভাল কাজ করে।
সাপোর্ট-রেজিস্টেন্স সনাক্তকরণঃ সাপোর্ট-রেজিস্টেন্স
শুধু পড়লে হবে না, সাথে সাথে আঁকতে হবে অর্থাৎ প্র্যাকটিস করতে হবে। সাপোর্ট রেজিস্টেন্স সনাক্ত করা জন্য -
- নুন্যতম ১ বছরের চার্টের উপর কাজ শুরু করুন
- চার্টে হরাইজন্টাল প্রাইস লেভেল চিহ্নিত করুন
- চার্টে ট্রেন্ড লাইন ড্র করুন (মিড ও লং টার্ম)
- চার্টে মুভিং এভারেজ ২০, ৫০, ২০০ যোগ করুন
- সাপোর্ট-রেজিস্টেন্স পয়েন্ট গুলো মার্কিং করুন
সাপোর্ট রেজিস্টেন্সের ব্যবাহারঃ
ট্রেন্ড রিভার্সাল সনাক্ত করতে।
সাপোর্ট লেভেলে বাউন্স করলে বাই করতে।
সাপোর্ট লেভেল ব্রেক-ডাউন হলে এসএল নিতে।
রেজিস্টেন্সে বেক-আওউট হলে বাই করতে।
রেজিস্টেন্সে বাধাগ্রস্ত হলে প্রফিট টেক করতে।
সাপোর্ট-রেজিস্টেন্স ব্যবহার করে যেহেতু বাই সেল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় সেহেতু এটা যে খুব গুরুত্বপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সাপোর্ট-রেজিস্টেন্স ট্রেডিং স্ট্যাটেজি লেভেল-৩ তে আলোচনা করা হয়েছে।
সাপোর্ট রেজিস্ট্রেন্স কনফ্লুয়েন্সঃ
যখন একাধিক ধরণের সাপোর্ট রেজিস্ট্রেন্স একটি জায়গায় পাওয়া যায় তখন সেই পয়েন্টটিকে সাপোর্ট রেজিস্ট্রেন্স কনফ্লুয়েন্স পয়েন্ট বলে। যত বেশী সংখ্যক সাপোর্ট রেজিস্ট্রেন্স একটি জায়গায় পাওয়া যায় এটার শক্তি তত বৃদ্ধি পায় এবং তত বেশী কার্যকর হয়।
সাপোর্ট রেজিস্ট্রেন্স ট্রেডারদের জন্য কনফ্লুয়েন্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটা সাধারণ সাপোর্ট রেজিস্টেন্সের তুলনায় অনেক বেশী কার্যকর, এজন্য এটার বিস্তারিত লেভেল-৩ তে ট্রেডিং স্ট্র্যাটেজির মধ্যে আলোচনা করা হয়েছে।